পদ ও পদের শ্রেণিবিভাগ: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় পদ ও ক্রিয়া পদ
| NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা |
|---|---|---|---|---|---|
| কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | ||
| ১৮তম | ০ | ২ | ০ | ১৩তম | ০ |
| ১৭তম | ০ | ০ | ০ | ১২তম | ০ |
| ১৬তম | ০ | ১ | ০ | ১১তম | ০ |
| ১৫তম | ১ | ১ | ০ | ১০ম | ০ |
| ১৪তম | ০ | ১ | ০ | ৯ম | ০ |
কলেজ পর্যায়
১. "সুন্দর মানুষকে নিজের দিকে টানে" বাক্যটিতে 'সুন্দর' শব্দটি কোন পদ? [১৫তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৮]
(ক) বিশেষ্য (খ) বিশেষণ
(গ) সর্বনাম (ঘ) অব্যয় উ. ক
ব্যাখ্যা : যে পদে সাধারণত কোনো ব্যক্তি, বস্তু, জাতি, সমষ্টি, বিষয়, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় বা কোনো কিছুর নাম বোঝায় তাকে বিশেষ্য পদ বলে। যেমন–
সুন্দর (বিশেষ্য) মানুষকে নিজের দিকে টানে।
সুন্দর (বিশেষ্য) মাত্রেরই একটা আকর্ষণ শক্তি আছে।
সুন্দরের (বিশেষ্য) একটি নিজস্ব আকর্ষণ শক্তি আছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
২. সাধুরীতিতে কোন শব্দটির দীর্ঘরূপ হয় না? [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২]
(ক) বিশেষ্য (খ) সর্বনাম (গ) অব্যয় (ঘ) ক্রিয়া উ. গ
ব্যাখ্যা : ন ব্যয় = অব্যয়।
যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়। অব্যয় শব্দের সাথে কোনো বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলোর একবচন বা বহুবচন হয় না এবং সেগুলোর স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।
যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
[উল্লেখ্য, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে, অব্যয় কে শব্দের শ্রেণি বিভাগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে]
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
স্কুল পর্যায়
৩. 'চন্দ্র'-এর বিশেষণ রূপ কোনটি? [১৮তম বিসিএস/নি. (স্কুল): ২০২৪]
(ক) চান্দ্র
(খ) চাঁদ
(গ) চন্দ্রা
(ঘ) চান্দ্রী
উওর: ক
ব্যাখ্যা: * 'চন্দ্র' এর বিশেষণ রূপ– 'চান্দ্র'।
'চন্দ্র' (বিশেষ্য) বলতে বোঝায়: পৃথিবীর উপগ্রহ— যা পৃথিবীকে মাসে একবার প্রদক্ষিণ করে।
'চান্দ্র' (বিশেষণ) চন্দ্র সম্পর্কিত।
'চন্দ্র'-এর সমার্থক শব্দ: চাঁদ, চন্দ্রমা, নিশাকর, নিশাকান্ত, শশধর, হিমাংশু, সুধাংশু, সুধাকর, ইন্দু, বিধু, শশী, সোম, মৃগাঙ্ক।
উৎস: অভিধান- বাংলা একাডেমি।
৪. কোন অব্যয় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের পরে যুক্ত হয়ে বিভক্তির কাজ করে? [১৮তম বিসিএস/নি. (স্কুল): ২০২৪]
(ক) সংযোজক
(খ) সমুচ্চয়ী
(গ) অনুকার
(ঘ) অনুসর্গ
উত্তর: ঘ
ব্যাখ্যা: অনুসর্গ অব্যয় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের পরে যুক্ত হয়ে বিভক্তির কাজ করে।
যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
অব্যয়ের প্রকারভেদ: অব্যয় প্রধানত চার প্রকার। যথা—
সমুচ্চয়ী অব্যয়: যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে। যেমন— ও, আর, বা, অথবা, কিন্তু, বরং ইত্যাদি। সমুচ্চয়ী অব্যয়কে আবার সংযোজক, বিয়োজক ও সংকোচক অব্যয়— এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
অনন্বয়ী অব্যয়: যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমন—
উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে: হ্যাঁ, আমি যাব। না, আমি যাব না।
সম্মতি প্রকাশে: আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব।
অনুসর্গ/পদান্বয়ী অব্যয়: যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে। যথা— ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (এখানে 'দিয়ে' অনুসর্গ অব্যয়)।
অনুকার অব্যয়: যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। যেমন— কড় কড়, ঝম ঝম, কা কা, টুং টাং ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৫. মরি! মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ–এখানে অনন্বয়ী অব্যয় কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে? [১৬তম বিসিএস/নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) যন্ত্রণা
(খ) বিরক্তি
(গ) সম্মতি
(ঘ) উচ্ছ্বাস
উত্তর: ঘ
ব্যাখ্যা: বাক্যে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয়। এর দ্বারা উচ্ছ্বাস অর্থ প্রকাশ পেয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৬. আদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ কোনটি? [১৫তম বিসিএস/নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) আমটা খাও
(খ) সবাই এখানে আসুন
(গ) সুখী হও
(ঘ) নিজের দিকে খেয়াল রাখ
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: * আদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ— আমটা খাও।
আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বোঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা বলে।
আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়। যেমন—
অনুরোধ: সবাই এখানে আসুন।
উপদেশ: নিজের দিকে খেয়াল রাখ।
প্রার্থনা: সুখী হও।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৭. 'ভিক্ষুকটা যে পেছনে লেগেই রয়েছে, কি বিপদ!'-এ বাক্যের 'কী' এর অর্থ কোনটি? [১৪তম বিসিএস/নি. (স্কুল): ২০১৭]
(ক) বিরক্তি
(খ) রাগ
(গ) ভয়
(ঘ) হুমকি
উত্তর: ক
ব্যাখ্যা: 'কী বিপদ, লোকটা যে পিছু ছাড়ে না!'— এখানে অব্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে বিরক্তি প্রকাশে। তেমনিভাবে, 'ভিক্ষুকটা যে পেছনে লেগেই রয়েছে, কী বিপদ!' বাক্যের অব্যয় পদটি (কী) 'বিরক্তি' অর্থ প্রকাশ করে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।