শব্দের শ্রেণিবিভাগ ও শব্দের উৎসসূচক
| NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা |
|---|---|---|---|---|---|
| কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | ||
| ১৮তম | ২ | ১ | ০ | ১৩তম | ২ |
| ১৭তম | ২ | ০ | ১ | ১২তম | ২ |
| ১৬তম | ২ | ৩ | ০ | ১১তম | ১ |
| ১৫তম | ১ | ২ | ০ | ১০ম | ০ |
| ১৪তম | ৩ | ২ | ০ | ৯ম | ১ |
কলেজ পর্যায়
১. অর্থানুসারে শব্দ কত প্রকার? [১৮তম শি.নি. (কলেজ): ২০২৪]
(ক) ২ প্রকার
(খ) ৩ প্রকার
(গ) ৪ প্রকার
(ঘ) ৫ প্রকার
উ. খ
ব্যাখ্যা : অর্থগতভাবে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: যৌগিক শব্দ, রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ ও যোগরূঢ় শব্দ।
যৌগিক শব্দ : যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থানুযায়ী নির্ধারিত হয়ে থাকে তাদের যৌগিক শব্দ বলে। যেমন— পড়ূ + উয়া = পড়ুয়া; ঢাকা + আই = ঢাকাই; কৃ + তব্য = কর্তব্য।
রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ : যেসব প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন— ‘সন্দেশ’ শব্দের শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থ ‘সংবাদ’। কিন্তু এর প্রচলিত অর্থ ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’। কাজেই ‘সন্দেশ’ রূঢ়ি শব্দ। হস্তী, তৈল, বাঁশি ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।
যোগরূঢ় শব্দ : সমাসবদ্ধ অথবা একাধিক শব্দ বা ধাতুর দ্বারা নিষ্পন্ন শব্দ যখন কোনো আপেক্ষিক অর্থ না বুঝিয়ে অন্য বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে। যেমন— ‘পঙ্কজ’ শব্দের আপেক্ষিক অর্থ হলো যা পঙ্কে জন্মে তা, অর্থাৎ শৈবাল, পদ্মফুল, কেঁচো প্রভৃতি। কিন্তু পঙ্কজ বললে শুধু পদ্মফুলকেই বোঝায়। কাজেই ‘পঙ্কজ’ যোগরূঢ় শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
২. ‘রিক্সা’ কোন ভাষার শব্দ? [১৮তম শি.নি. (কলেজ): ২০২৪]
(ক) তুর্কি
(খ) কোরিয়ান
(গ) জাপানি
(ঘ) পর্তুগিজ
উ. গ
ব্যাখ্যা : ‘রিক্সা’ শব্দটি ‘জাপানি’ ভাষা থেকে আগত।
রিকশা/রিক্সা (বিশেষ্য):
অর্থ: মানুষবাহিত দুই বা তিন চাকার সড়কযান।
আরও কিছু জাপানি শব্দ হলো— সুনামি, ক্যারাটে, হাসনাহেনা, জুতো, রিক্সা, প্যাগোডা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩. ‘কলম’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে গৃহীত? [১৭তম শি.নি. (কলেজ): ২০২২]
(ক) সংস্কৃত
(খ) আরবি
(গ) ফারসি
(ঘ) তুর্কি
উ. খ
ব্যাখ্যা : ‘কলম’ শব্দটি আরবি ভাষা থেকে গৃহীত।
কলম (বিশেষ্য):
অর্থ: কোন শক্ত দণ্ডের প্রান্তে বল বা নিব সংযুক্ত করে তৈরি লেখনী; করনাকলম। নলখাগড়া পালক প্রভৃতির অগ্রভাগ ত্যারচা করে কেটে তৈরি লেখনী।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪. পাউরুটি কোন ভাষার শব্দ? [১৭তম শি.নি. (কলেজ): ২০২২]
(ক) পাঞ্জাবি
(খ) ফারসি
(গ) গুজরাটি
(ঘ) পর্তুগিজ
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : পাউরুটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ।
পাউরুটি (বিশেষ্য):
অর্থ: তন্দুরে সেঁকা ময়দার তৈরি ফাঁপা রুটিবিশেষ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫. কোনটি ফারসি শব্দ? [১৬তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৯]
(ক) চাবি
(খ) চাকর
(গ) চাহিদা
(ঘ) চশমা
উ. ব্যাখ্যা দেখুন।
ব্যাখ্যা : চশমা (বিশেষ্য): ফারসি শব্দ
অর্থ: ক্ষীণদৃষ্টি শক্তি সংশোধনের উদ্দেশ্যে নাকের উপর ধারণীয় ফ্রেমে আঁটা কাচ বা প্লাস্টিকের পরকলাযুক্ত সরঞ্জাম, উপনেত্র।
চাকর (বিশেষ্য):
ফারসি শব্দ— আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুযায়ী।
তুর্কি শব্দ— মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ) অনুযায়ী।
অর্থ: পরিচারক, কর্মচারী।
অন্য অপশন:
চাবি = পর্তুগিজ শব্দ।
চাহিদা = আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুযায়ী বাংলা শব্দ; মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ) অনুযায়ী পাঞ্জাবি শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬. যোগরূঢ় শব্দ কোনটি? [১৬তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৯]
(ক) বাঁশি
(খ) তৈল
(গ) পঙ্কজ
(ঘ) চিকামারা
উ. গ
ব্যাখ্যা : পঙ্কজ- পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র ‘পদ্মফুল’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
অন্য অপশন:
বাঁশি, তৈল- রূঢ়ি শব্দ।
চিকামারা- যৌগিক শব্দ।
সমাসনিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে। যেমন—
জলধি : ‘জল ধারণ করে এমন’ অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র ‘সমুদ্র’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
মহাযাত্রা : ‘মহাসমারোহে যাত্রা’ অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ ‘মৃত্যু’।
রাজপুত : ‘রাজার পুত্র’ অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে ‘জাতি বিশেষ’।
অন্যদিকে, সন্দেশ, প্রবীণ, গবেষণা, হস্তী রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৭. মৌলিক শব্দ কোনটি? [১৫তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৮]
(ক) শ্রবণ
(খ) পরিষ্কার
(গ) পাঠক
(ঘ) কালো
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন— গোলাপ, নাক, কালো, তিল, হাত, ফুল ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
শ্রবণ, পরিষ্কার, পাঠক ইত্যাদি সাধিত শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৮. কোনটি তৎসম শব্দ? [১৪তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৭]
(ক) কিংবদন্তি
(খ) হাতি
(গ) চাঁদ
(ঘ) তেঁতুল
উ. ক
ব্যাখ্যা : কিংবদন্তি (বিশেষ্য): এটি সংস্কৃত বা তৎসম শব্দ। এর প্রকৃতি প্রত্যয় = কিম্+বদ্+অন্তি
অর্থ: লোক পরম্পরায় শ্রুত কাহিনি, গুজব।
অন্যদিকে,
হাতি = সংস্কৃত শব্দ হস্তী থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ।
চাঁদ = সংস্কৃত শব্দ চন্দ্র থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ।
তেঁতুল = সংস্কৃত শব্দ তিন্তিড়ী থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯. উৎপত্তি অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়? [১৪তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৭]
(ক) ৪ ভাগে
(খ) ৩ ভাগে
(গ) ৫ ভাগে
(ঘ) ৬ ভাগে
উ. ক
ব্যাখ্যা : উৎস/উৎপত্তি বিবেচনায় বাংলা শব্দ ভাণ্ডার নিয়ে কিছু মতভেদ রয়েছে।
| উৎস/উৎপত্তি বিবেচনায় বাংলা শব্দ | প্রকার |
|---|---|
| মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৩ সংস্করণ) অনুযায়ী | চার প্রকার। যথা— তৎসম, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি। |
| বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড) অনুযায়ী | চার প্রকার। যথা— তৎসম, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি। |
| মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ) অনুযায়ী | পাঁচ প্রকার। যথা— তৎসম, তদ্ভব, অর্ধ-তৎসম, দেশি, বিদেশি। |
বাংলা ভাষার জন্য বাংলা একাডেমি সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ; তাই বাংলা একাডেমির প্রদত্ত ৪ শ্রেণির বিভাজনটি অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হবে।
উল্লেখ্য, যে কোনো পরীক্ষায় যদি প্রশ্ন হয়- বাংলা শব্দের উৎসগত শ্রেণি কয়টি এবং অপশনে ৪ ও ৫ দুটিই থাকে; উত্তর ৪ হবে। [বাংলা একাডেমি ব্যাকরণ অনুসারে]
যদি একই রকম প্রশ্ন ও অপশনে ৪ না থাকে; সেক্ষেত্রে উত্তর ৫টি হতে পারে। [মাধ্যমিক ব্যাকরণের পুরনো সংস্করণ ও অন্যান্য প্রচলিত ব্যাকরণ বই অনুসারে]
১০. 'ইংরেজি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে? [১৪তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৭]
(ক) গ্রিক
(খ) তুর্কি
(গ) ফারসি
(ঘ) পর্তুগিজ
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : 'ইংরেজি' শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে।
ইংরেজি (বিশেষ্য):
অর্থ: ইংরেজদের ভাষা। English.
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১. নিচের কোনটি যোগরূঢ় শব্দ? [১৩তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৬]
(ক) পঙ্কজ
(খ) তৈল
(গ) মধুর
(ঘ) নবাবী
উ. ক
ব্যাখ্যা : পঙ্কজ- পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' শব্দটি একটি যোগরূঢ় শব্দ।
অন্যদিকে,
তৈল- রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।
মধুর এবং নবাবী- যৌগিক শব্দের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১২. কোনটি দেশী শব্দ? [১৩তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৬]
(ক) রিকশা
(খ) চা
(গ) কিতাব
(ঘ) কুলা
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : কুলা (বিশেষ্য) : সংস্কৃত শব্দ কুল্য থেকে আগত তদ্ভব শব্দ। অর্থ: ধান, চাল প্রভৃতি ঝাড়ার জন্য ব্যবহৃত বাঁশের চাচ দিয়ে তৈরি অর্ধবৃত্তাকার ডালাবিশেষ, কুলো।
অনেক লেখক ও গবেষক তদ্ভব শব্দকে আমাদের দেশি শব্দের নিজস্ব সম্পদ বলে অভিহিত করেছেন।
তাই এখানে সঠিক উত্তর- কুলা।
অন্যদিকে,
রিকশা = জাপানি শব্দ
চা = চীনা শব্দ
কিতাব = আরবি শব্দ
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩. নতুন শব্দ গঠন করে— [১২তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৫]
(ক) সন্ধি ও সমাস
(খ) সন্ধি ও কারক
(গ) সমাস ও পদ
(ঘ) প্রত্যয় ও পুরুষ
উ. ক
ব্যাখ্যা :
সন্ধি : সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।
সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়।
সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।
সমাস : অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। সমাস অর্থ হলো সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
সমাসের কাজ হলো ভাষাকে সংক্ষেপ করা, নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করা, শব্দ গঠন প্রভৃতি।
সমাস শব্দ বা রূপতত্ত্বে আলোচিত হয়।
অন্য অপশন:
কারক : বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে। ‘কারক’ শব্দটির অর্থ যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।
পদ : শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তাকে পদ বলে।
প্রত্যয় : শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
পুরুষ : পুরুষ একটি পারিভাষিক শব্দ। বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়ারই পুরুষ আছে। বিশেষণ ও অব্যয়ের পুরুষ নেই।
বাংলা ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার। যথা— উত্তম পুরুষ (স্বয়ং বক্তা), মধ্যম পুরুষ (প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতা) এবং নাম পুরুষ (অনুপস্থিত অথবা পরোক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণী)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ), ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪. ‘গিন্নি’ কোন শব্দ? [১২তম শি.নি. (কলেজ): ২০১২]
(ক) তৎসম
(খ) অর্ধতৎসম
(গ) তদ্ভব
(ঘ) বিদেশী
উ. খ
ব্যাখ্যা : অর্ধ-তৎসম শব্দ হচ্ছে গিন্নি।
অর্ধ-তৎসম শব্দ : বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত হয়ে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলা হয়। তৎসম মানে সংস্কৃত। আর অর্ধ-তৎসম অর্থ আধা সংস্কৃত।
উদাহরণ— বোষ্টম, জোছনা, গিন্নি, কুচ্ছিত, ছেরাদ্দ-এ শব্দগুলো যথাক্রমে সংস্কৃত বৈষ্ণব, জ্যোৎস্না, গৃহিণী, কুৎসিত, শ্রাদ্ধ থেকে আগত।
উল্লেখ্য, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) বইয়ে অর্ধ-তৎসম কে শব্দের শ্রেণিবিভাগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১৫. সুহৃদ কী ধরনের শব্দ? [১১তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৪]
(ক) মৌলিক
(খ) রূঢ়ি
(গ) যোগরূঢ়
(ঘ) যৌগিক
উ. গ
ব্যাখ্যা : সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
উদাহরণ- পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, সহৃদ, অসুখ, সরোজ প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
কয়েকটি রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ : প্রবীণ, সন্দেশ, বাঁশি, গবেষণা ইত্যাদি।
কয়েকটি মৌলিক শব্দ : হাত, পা, এক, তিন, গোলাপ, ফুল, নাক ইত্যাদি।
কয়েকটি যৌগিক শব্দ : গায়ক, নায়ক ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
১৬. গঠন অনুসারে শব্দ কত প্রকার? [৯ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৩]
(ক) তিন
(খ) দুই
(গ) পাঁচ
(ঘ) চার
উ. খ
ব্যাখ্যা : গঠন অনুযায়ী শব্দ দুই প্রকার। যথা—
১. মৌলিক শব্দ ২. সাধিত শব্দ
মৌলিক শব্দ : যে শব্দকে আর ভাঙা বা বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন— লাল, গোলাপ, হাত, পা মৌলিক শব্দ।
সাধিত শব্দ : যে শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়। যেমন— পরিচালক, সম্পাদকীয়, গরমিল, নীলাকাশ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
১৭. ‘হরতাল’ কী ধরনের শব্দ? [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২]
(ক) তুর্কি
(খ) চীনা
(গ) পাঞ্জাবি
(ঘ) গুজরাটি
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : হরতাল গুজরাটি শব্দ।
শব্দ হলো অর্থবোধক ধ্বনিসমষ্টি, যা বাক্য গঠনের মূল উপাদান। শব্দ একাধিক বর্ণ ও অক্ষর সমন্বয়ে গঠিত হয়ে থাকে।
গুজরাটি শব্দ : খদ্দর, হরতাল।
পাঞ্জাবি শব্দ : শিখ।
চীনা শব্দ : চা, চিনি।
তুর্কি শব্দ : কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, তুরুক, বেগম, বাবা, চাকু, তোপ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
১৮. বাংলা ভাষায় শব্দ সম্ভারকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে? [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২]
(ক) দুইটি
(খ) তিনটি
(গ) চারটি
(ঘ) পাঁচটি
উ. গ
ব্যাখ্যা : ২০২২ বোর্ড বই অনুসারে, উৎসগত দিক থেকে বাংলা ভাষার শব্দ সম্ভার চার ভাগে বিভক্ত। যথা—
১. তৎসম ২. তদ্ভব ৩. দেশি ৪. বিদেশি
স্কুল পর্যায়
১৯. ‘পেয়ারা’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ? [১৮তম শি.নি. (স্কুল): ২০২৪ / ১৪তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৭ / ১১তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪]
(ক) হিন্দি
(খ) উর্দু
(গ) পর্তুগিজ
(ঘ) গ্রিক
উ. গ
ব্যাখ্যা : পেয়ারা পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ।
‘পেয়ারা’ (বিশেষ্য):
অর্থ: ক্রান্তীয় বা উপক্রান্তীয় অঞ্চলে চাষ করা হয় এমন মাঝারি আকৃতির চিরহরিৎ উদ্ভিদের অসংখ্য ছোট বীজবিশিষ্ট গোলাকৃতির ফল।
পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো— আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি, পাদ্রি, কামরা, বোতল, জানালা, বোতাম, গামলা, সাবান, তোয়ালে।
অন্য অপশন:
কিছু হিন্দি শব্দ : দেখভাল, দুলকি, দিলরুবা, দাবা, দাপট, দাঙ্গা, দহলা, দশেরা, দরদাম, ঝাড়ু, জুতা, জুড়ি, ঢাকনা, ঝিল, চৌপট, চৌপাল, চৌতাল, চাটনি, কুঁকড়া, তাস, সমঝোতা।
কিছু গ্রিক শব্দ : দাম, কেন্দ্র, কেরোসিন।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২০. ‘পেয়ারা’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ? [১৬তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) বাংলা
(খ) পর্তুগিজ
(গ) ফারসি
(ঘ) হিন্দি
উ. খ
ব্যাখ্যা : পেয়ারা পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ।
কিছু ফারসি শব্দ : খোদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ, পয়গম্বর, ফেরেশতা, বেহেশত, রোজা, পরহেজগার, দরগা, জায়নামাজ, কারখানা, চশমা, জবানবন্দি, তোশক, দফতর, দরবার, দোকান, দস্তখত, নালিশ, বাদশাহ, বান্দা, মেথর, রসদ, আইন, সালিশ, নালিশ, সুপারিশ, সেতার, খানা, রসিদ, ফরমান, ফরিয়াদ, শাদি, আমদানি, জানোয়ার, জিন্দা, নমুনা, বদমাশ, রপ্তানি, হাঙ্গামা, সর্দি, শিরোনাম, সবজি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২১. ‘খ্রিস্টান’ কোন জাতীয় মিশ্র শব্দ? [১৬তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) ইংরেজি + বাংলা
(খ) ইংরেজি + আরবি
(গ) ইংরেজি + ফারসি
(ঘ) ইংরেজি + তৎসম
উ. ব্যাখ্যা দেখুন।
ব্যাখ্যা : আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে, ‘খ্রিস্টান’ ইংরেজি শব্দ। এটি মিশ্র শব্দ নয়।
উল্লেখ্য,
পকেট-মার শব্দটি ইংরেজি + বাংলা শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।
হেড-মৌলভী, ডাক্তার-খানা শব্দগুলো ইংরেজি + ফারসি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।
খ্রিস্টাব্দ, হেড-পণ্ডিত শব্দগুলো ইংরেজি + তৎসম শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
২২. কোনটি দেশি শব্দের উদাহরণ? [১৬তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) লুঙ্গি
(খ) খোকা
(গ) সম্রাট
(ঘ) গঞ্জ
উ. ব্যাখ্যা দেখুন।
ব্যাখ্যা : মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ) অনুযায়ী, গঞ্জ = দেশি শব্দ।
কিন্তু, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে, গঞ্জ = ফারসি শব্দ।
অন্যদিকের,
লুঙ্গি = ফারসি শব্দ।
खोকা = তুর্কি শব্দ।
সম্রাট = সংস্কৃত শব্দ।
২৩. ‘মহকুমা’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে? [১৫তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) তুর্কি
(খ) আরবি
(গ) ফারসি
(ঘ) ফরাসি
উ. খ
ব্যাখ্যা : ‘মহকুমা’ আরবি শব্দ। যার বাংলা অর্থ— কয়েকটি থানার সমন্বয়ে গঠিত প্রশাসনিক অঞ্চল (বাংলাদেশে বর্তমানে জেলায় উন্নীত)।
আরবি ভাষা থেকে বাংলায় আসা আরো কিছু শব্দ:
১. ধর্মসংক্রান্ত : আল্লাহ, ইসলাম, ঈমান, ওজু, কোরবানি, কোরআন, কেয়ামত, জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, জাকাত/যাকাত, হজ, হারাম, হালাল ইত্যাদি।
২. প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক : আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, খারিজ, গায়েব, মহকুমা, মুন্সেফ/মুনসেফ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২৪. অর্থ অনুসারে ‘হরিণ’ কোন ধরনের শব্দ? [১৫তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) যৌগিক
(খ) মৌলিক
(গ) যোগরূঢ়
(ঘ) রূঢ়ি
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : অর্থ অনুসারে ‘হরিণ’ রূঢ়ি শব্দ।
রূঢ়ি শব্দ : যেসব শব্দ প্রত্যয় ও উপসর্গযোগে মূল শব্দের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন— বাঁশি, তৈল, সন্দেশ, প্রবীণ, হরিণ, পাঞ্জাবি, হস্তী ইত্যাদি।
অর্থ অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দ ৩ ভাগে বিভক্ত।
এগুলো হলো— যৌগিক শব্দ, রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ এবং যোগরূঢ় শব্দ।
যৌগিক শব্দ : যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন তাদের যৌগিক শব্দ বলে। যেমন— গায়ক, দৌহিত্র, চিকামারা, বাবুয়ানা, মধুর, কর্তব্য ইত্যাদি।
যোগরূঢ় শব্দ : সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় শব্দ বলে। যেমন— পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।
মৌলিক শব্দ : যে শব্দকে আর ভাঙা বা বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন— লাল, গোলাপ, হাত, পা মৌলিক শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
২৫. মৌলিক শব্দ কোনটি? [১৪তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৭]
(ক) আকাশ
(খ) শীতল
(গ) ঢাকাই
(ঘ) কান্না
উ. ক
ব্যাখ্যা : আকাশ হচ্ছে মৌলিক শব্দ।
গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা— মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ।
মৌলিক শব্দ : যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভাঙা যায় না, তাদেরকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন— গোলাপ, নাক, লাল, চাঁদ ইত্যাদি।
শীতল, ঢাকাই = প্রত্যয়যোগে গঠিত সাধিত শব্দ।
কান্না = সন্ধিযোগে গঠিত সাধিত শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
২৬. নিচের কোনটি অর্ধ-তৎসম শব্দ? [১১তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪, ৭ম শি.নি. (স্কুল): ২০১১]
(ক) গিন্নি
(খ) হস্ত
(গ) গঞ্জ
(ঘ) তসবি
উ. ক
ব্যাখ্যা : গিন্নি অর্ধ-তৎসম শব্দ। তৎসম মানে সংস্কৃত। আর অর্ধ-তৎসম মানে আধাসংস্কৃত। তৎসম শব্দ থেকে বিকৃত উচ্চারণের ফলে অর্ধ-তৎসম শব্দ উৎপন্ন হয়ে থাকে।
আরো কিছু অর্ধ-তৎসম শব্দ দেওয়া হলো : জোছনা, ছেরাদ্দ, বোষ্টম, কেষ্ট।
অন্যদিকে,
হস্ত = তৎসম শব্দ।
গঞ্জ = দেশি/ ফারসি শব্দ।
তসবি = আরবি শব্দ।
কিছু সংস্কৃত শব্দ : জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, কৃষ্ণ, গৃহিণী, চন্দ্র, সূর্য, আকাশ, হস্ত, মস্তক, চক্ষু, নর, নারী, বৃক্ষ, লতা ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২৭. গিন্নি, কেষ্ট শব্দ দুটি কোন ধরনের শব্দ? [১১তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪]
(ক) তৎসম
(খ) অর্ধ-তৎসম
(গ) দেশি
(ঘ) বিদেশি
উ. খ
ব্যাখ্যা : ‘গিন্নি’ ও ‘কেষ্ট’ অর্ধ-তৎসম শব্দ। তৎসম মানে সংস্কৃত। আর অর্ধ-তৎসম মানে আধাসংস্কৃত। তৎসম শব্দ থেকে বিকৃত উচ্চারণের ফলে অর্ধ-তৎসম শব্দ উৎপন্ন হয়ে থাকে।
উৎস: ভাষা - শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২৮. নিচের কোনটি তদ্ভব শব্দের উদাহরণ? [১০ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪]
(ক) মই
(খ) জোছনা
(গ) পাতা
(ঘ) কাগজ
উ. গ
ব্যাখ্যা : পাতা তদ্ভব শব্দের উদাহরণ।
তদ্ভব শব্দ : যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ। এই তদ্ভব শব্দগুলোকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলা হয়।
তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ ‘তৎ’ (তার) থেকে ‘ভব’ (উৎপন্ন)।
উদাহরণ- হস্ত (সংস্কৃত) > হখ (প্রাকৃত) > হাত (তদ্ভব); চর্মকার (সংস্কৃত) > চম্মআর (প্রাকৃত) > চামার (তদ্ভব) ইত্যাদি।
মই- সংস্কৃত মযী শব্দ থেকে এসেছে।
জোছনা- অর্ধ-তৎসম শব্দ।
কাগজ- ফারসি শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
২৯. ব্যাকরণ শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে? [১০ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪]
(ক) নব্য ভারতীয় আর্যভাষা
(খ) ফারসি
(গ) সংস্কৃত
(ঘ) অসমীয়া
উ. গ
ব্যাখ্যা : ব্যাকরণ শব্দটি ‘সংস্কৃত’ ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
ব্যাকরণ : ডক্টর সুকুমার সেনের মতে, যে শাস্ত্রে বাংলা ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতির বিচার ও বিশ্লেষণ আছে এবং যে শাস্ত্রে জ্ঞান থাকলে বাংলা ভাষা শুদ্ধরূপে বলতে, লিখতে ও শিখতে পারা যায়, তাকে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বলে। ব্যাকরণ শব্দের অর্থ বিশেষভাবে বিশ্লেষণ।
শব্দটি গঠিত হয়েছে এভাবে: বি + আ + $\sqrt{কৃ}$ বা কর + অন অর্থাৎ বিশেষ এবং সম্যকরূপে বিশ্লেষণ করা।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩০. ‘বারান্দা’ কোন ভাষা থেকে আগত? [৯ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৩]
(ক) পর্তুগিজ
(খ) ওলন্দাজ
(গ) তুর্কি
(ঘ) ইংরেজি
উ. ব্যাখ্যা দেখুন।
ব্যাখ্যা : আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী,
বারান্দা (বিশেষ্য): ফারসি শব্দ
অর্থ- ঘরসংলগ্ন ছাদযুক্ত বা ছাদহীন চত্বর, অলিন্দ, দাওয়া।
কিন্তু ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ অনুযায়ী,
বারান্দা- পর্তুগিজ শব্দ।
বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে, অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর- ফারসি।
৩১. কোনটি অর্ধ-তৎসম শব্দের উদাহরণ? [৯ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৩]
(ক) মাথা
(খ) ঢেঁকি
(গ) ভবন
(ঘ) কুচ্ছিত
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : কুচ্ছিত অর্ধ-তৎসম শব্দের উদাহরণ।
বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে বলে অর্ধ-তৎসম শব্দ। তৎসম মানে সংস্কৃত আর অর্ধ তৎসম মানে আধা সংস্কৃত। কুচ্ছিত একটি অর্ধ তৎসম শব্দের উদাহরণ। এটি মূলত সংস্কৃত কুৎসিত শব্দ থেকে এসেছে। যেমন— জোছনা, ছেরাদ্দ, গিন্নি, কুচ্ছিত, বোষ্টম শব্দগুলো অর্ধ-তৎসম শব্দ যা এসেছে যথাক্রমে সংস্কৃত শব্দ জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, কুৎসিত, বৈষ্ণব থেকে।
মাথা = তৎসম ‘মস্তক’ শব্দ থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ।
ঢেঁকি = বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ) অনুযায়ী দেশি শব্দ। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী হিন্দি ঢেংকি শব্দ থেকে এসেছে।
ভবন = সংস্কৃত শব্দ।
৩২. নিচের কোনটি মিশ্র শব্দ? [৯ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৩]
(ক) বেতার
(খ) হাটবাজার
(গ) হেড-মাস্টার
(ঘ) শাকসবজি
উ. ব্যাখ্যা দেখুন।
ব্যাখ্যা : সঠিক উত্তর খ ও ঘ।
কোনো কোনো সময় দেশি ও বিদেশি শব্দের মিলনে শব্দদ্বৈত সৃষ্টি হয়।
‘শাকসবজি’ একটি মিশ্র শব্দ।
বাংলা ভাষায় শাক শব্দটি তৎসম (সংস্কৃত) শব্দ থেকে এসেছে এবং সবজি শব্দটি ফারসি শব্দ থেকে এসেছে।
‘হাটবাজার’ একটি মিশ্র শব্দ।
হাট শব্দটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ হট্ট > থেকে উৎপন্ন। অর্থাৎ এটি একটি তদ্ভব শব্দ। আর তদ্ভব শব্দগুলো বাংলা ভাষার নিজস্ব শব্দ হিসাবে বিবেচিত হয়। অর্থাৎ হাট শব্দটি বাংলা শব্দও বটে। আবার, বাজার শব্দটি ফারসি শব্দ থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে। ‘হাটবাজার’ শব্দটি তদ্ভব/বাংলা ও ফারসি ভাষার শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।
বেতার একটি ফারসি শব্দ।
হেড-মাস্টার একটি ইংরেজি শব্দ।
৩৩. ‘হরতাল’ কোন ভাষার শব্দ? [৮ম শি.নি. (স্কুল): ২০১২]
(ক) পাঞ্জাবি
(খ) হিন্দি
(গ) জাপানি
(ঘ) গুজরাটি
উ. ঘ
ব্যাখ্যা : হরতাল ‘গুজরাটি’ ভাষার শব্দ।
হরতাল শব্দের অর্থ- ধর্মঘট; বিক্ষোভ প্রকাশ করার জন্য যানবাহন, হাট-বাজার, দোকান-পাট, অফিস-আদালত ইত্যাদি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ করা।
কিছু জাপানি শব্দ : ক্যারাটে, জুডো, হাসনুহানা, হারিকিরি, রিকশা।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৪. রেস্তোরাঁ কোন ভাষার শব্দ? [৮ম শি.নি. (স্কুল): ২০১২]
(ক) ওলন্দাজ
(খ) জাপানি
(গ) ফরাসি
(ঘ) ইংরেজি
উ. গ
ব্যাখ্যা : রেস্তোরাঁ (বিশেষ্য): ফরাসি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
অর্থ: যে দোকানে অর্থের বিনিময়ে পছন্দমতো আহার্য পরিবেশন করা হয়।।
এখানে আপনার আপলোড করা ইমেজটির সম্পূর্ণ টেক্সট টাইপ এবং ফরম্যাট করে দেওয়া হলো:
বাংলা ❑ ৩১
কিছু ওলন্দাজ শব্দ : ইস্কাপন, টেক্কা, তুরুপ, রুইতন, হরতন (তাসের নাম)।
কিছু ফরাসি শব্দ : কুপন, ডিপো, রেস্তোরাঁ, আঁতাত। উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৫. 'ব্যাকরণ' কোন ভাষার শব্দ? [৮ম সি.নি. (স্কুল): ২০১২] (ক) বাংলা (খ) সংস্কৃত (গ) পর্তুগিজ (ঘ) হিন্দি উ. খ
ব্যাখ্যা : ব্যাকরণ সংস্কৃত শব্দ। কোনো ভাষার শব্দ ও পদ বিন্যাসের স্বরূপ, কাঠামো, রীতি ও বিশ্লেষণ সম্পর্কিত বিদ্যা বা গ্রন্থ। উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
৩৬. নিচের কোনটি অর্ধ-তৎসম শব্দ? [৭ম সি.নি. (স্কুল): ২০১১] (ক) কুৎসিত (খ) ভবন (গ) পাত্র (ঘ) গৃহিণী উ. ক
ব্যাখ্যা : কুচ্ছিত অর্ধ-তৎসম শব্দ। তৎসম মানে সংস্কৃত আর অর্ধ-তৎসম মানে আধা সংস্কৃত। জোছনা, ছেরাদ্দ, গিন্নি, কুচ্ছিত শব্দগুলো অর্ধ-তৎসম শব্দ যা এসেছে যথাক্রমে সংস্কৃত শব্দ জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী কুৎসিত।
গৃহিণী, ভবন, পাত্র = সংস্কৃত বা তৎসম শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৭. 'পাউরুটি'-কোন ভাষার শব্দ? [৭ম সি.নি. (স্কুল): ২০১১] (ক) পাঞ্জাবী (খ) পর্তুগিজ (গ) গুজরাটি (ঘ) ফার্সি উ. খ
ব্যাখ্যা : 'পাউরুটি'-পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ। পাউরুটি (বিশেষ্য): পর্তুগিজ শব্দ অর্থ: তন্দুরে সেঁকা ময়দার তৈরি ফাঁপা রুটিবিশেষ। উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৮. পর্তুগিজ ভাষার শব্দ নয় কোনটি? [৭ম সি.নি. (স্কুল): ২০১১] (ক) আনারস (খ) আলমারি (গ) গুদাম (ঘ) চাহিদা উ. ঘ
ব্যাখ্যা : চাহিদা-আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুযায়ী বাংলা শব্দ; মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ) অনুযায়ী পাঞ্জাবি শব্দ। অর্থ: বাজারে পণ্যদ্রব্যের প্রয়োজনীয়তা। (Demand); ক্রয়ের ইচ্ছা।
অন্যদিকে,
আনারস, আলমারি ও গুদাম – পর্তুগিজ ভাষার শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৯. নিচের কোনটি তৎসম শব্দ? [৬ষ্ঠ সি.নি. (স্কুল): ২০১০] (ক) চাঁদ (খ) ভবন (গ) বালতি (ঘ) হরতাল উ. খ
ব্যাখ্যা : 'ভবন'-তৎসম শব্দ। অর্থ: আলয়, গৃহ, বাসস্থান।
চাঁদ- তৎসম 'চন্দ্র' শব্দ থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ।
বালতি- পর্তুগিজ শব্দ।
হরতাল- গুজরাটি শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪০. কোনটি দেশি শব্দ? [৬ষ্ঠ সি.নি. (স্কুল): ২০১০] (ক) গিন্নি (খ) কৃপণ (গ) টোপর (ঘ) মাথা উ. গ
ব্যাখ্যা : 'টোপর'– দেশি শব্দ। অর্থ- শিরস্ত্রাণ; বড় টুপি।
গিন্নি- অর্ধ-তৎসম শব্দ।
কৃপণ- সংস্কৃত বা তৎসম শব্দ।
মাথা- তৎসম 'মস্তক' শব্দ থেকে এসেছে।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
স্কুল পর্যায়-২
৪১. নিচের কোনটি তৎসম শব্দ? [১৭তম সি.নি. (স্কুল-২): ২০২২] (ক) চাঁদ (খ) খোকা (গ) কাঠ (ঘ) সন্ধ্যা উ. ঘ
ব্যাখ্যা : সন্ধ্যা (বিশেষ্য): সংস্কৃত বা তৎসম শব্দ। অর্থ: দিন ও রাতের সন্ধিক্ষণ, রাত্রির আরম্ভ, সাঁঝ। যুগসন্ধি, যুগের অবসান ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
চাঁদ = সংস্কৃত শব্দ চন্দ্র থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ।
কাঠ = সংস্কৃত শব্দ কাষ্ঠ থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ।
খোকা = তুর্কি ভাষা উৎস থেকে আগত।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪২. 'আনারস' কোন ভাষার শব্দ? [১৩তম সি.নি. (স্কুল-২): ২০১৬] (ক) ওলন্দাজ (খ) গুজরাটি (গ) পর্তুগিজ (ঘ) জাপানি উ. গ
ব্যাখ্যা : 'আনারস'– 'পর্তুগিজ' ভাষা থেকে আগত শব্দ। পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো— আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি, পাদ্রি, কামরা, বোতল, জানালা, বোতাম, গামলা, সাবান, তোয়ালে। উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
৪৩. 'চশমা' কোন ভাষার শব্দ? [১২তম সি.নি. (স্কুল-২): ২০১৫] (ক) আরবি (খ) ফারসি (গ) ফরাসি (ঘ) গুজরাটি উ. খ
ব্যাখ্যা : চশমা (বিশেষ্য): ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ। অর্থ: ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তি সংশোধনের উদ্দেশ্যে নাকের ওপর ধারণীয় ফ্রেমে আঁটা কাচ বা প্লাস্টিকের পরকলা যুক্ত সরঞ্জাম, উপনেত্র। উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৪. 'হরতাল' কোন ভাষার শব্দ? [১১তম সি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪] (ক) গুজরাটি (খ) তুর্কি (গ) পর্তুগিজ (ঘ) বার্মিজ উ. ক
ব্যাখ্যা : হরতাল– 'গুজরাটি' ভাষার শব্দ। অর্থ: ধর্মঘট; বিক্ষোভ প্রকাশ করার জন্য যানবাহন, হাট-বাজার, দোকান-পাট, অফিস-আদালত ইত্যাদি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ করা।
অন্যদিকে, ফুঙ্গি- বার্মিজ শব্দ। উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৫. চলিত রীতির শব্দ কোনটি? [১০ম সি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪]
(ক) শুষ্ক (খ) শুকনা (গ) তুলা (ঘ) তুলো উ. ঘ
ব্যাখ্যা : 'তুলা'-এর কথ্য বা চলিত রূপ হচ্ছে 'তুলো'। এখানে 'তুলা' অর্থ কার্পাস বা শিমুল প্রভৃতি ফলের মধ্যকার সাদা আঁশ যা থেকে সুতা উৎপাদিত হয়।
সাধু রীতির শব্দ : মস্তক, জুতা, তুলা, শুষ্ক/শুকনা, বন্য।
চলিত রীতির শব্দ : মাথা, জুতো, তুলো, শুকনো, বুনো।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
ধাতু ও প্রত্যয়
| NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | ||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | |||
| ১৮তম | ১ | ১ | ২ | ১৩তম | ১ | ২ | ২ | ৮ম | ০ | ০ | ০ |
| ১৭তম | ৩ | ২ | ২ | ১২তম | ১ | ২ | ২ | ৭ম | ০ | ০ | ০ |
| ১৬তম | ১ | ১ | ০ | ১১তম | ১ | ২ | ২ | ৬ষ্ঠ | ০ | ০ | ০ |
| ১৫তম | ১ | ৪ | ০ | ১০ম | ১ | ২ | ১ | বিশেষ | ০ | ০ | ০ |
| ১৪তম | ১ | ২ | ২ | ৯ম | ০ | ০ | ০ | মোট | ১১ | ১৮ | ১৩ |
কলেজ পর্যায়
১. 'কর্তব্য' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? [১৮তম সি.নি. (কলেজ): ২০২৪]
(ক) কব + তব্য (খ) কর + তব্য (গ) কর্তা + অব্য (ঘ) কৃ + তব্য উ. ঘ
ব্যাখ্যা : ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে। কৃৎপ্রত্যয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। যেমন- $\sqrt{\text{দুল্}}$ + অনা = দোলনা; $\sqrt{\text{কৃ}}$ + তব্য = কর্তব্য।
উপর্যুক্ত উদাহরণে- 'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃৎপ্রত্যয় সাধিত, অর্থাৎ কৃদন্ত শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)
২. 'মানব' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? [১৭তম সি.নি. (কলেজ): ২০২২]
(ক) মুন + ফ্ণ (খ) মনু + অব (গ) মনু + ফ্ণ (ঘ) মা + নব উ. গ
ব্যাখ্যা : 'মানব' একটি বাংলা তদ্ধিতান্ত শব্দ। এই শব্দটিকে ভাঙলে নামশব্দ 'মনু' ও বাংলা তদ্ধিতপ্রত্যয় 'ষ্ণ (অ)' পাওয়া যায়।
নামশব্দের সঙ্গে ষ্ণ (অ) তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হলে তদ্ধিতান্ত শব্দটির প্রাতিপদিকের (বিভক্তিহীন মূলশব্দ বা শব্দমূল বা নামপদ) অন্ত্যস্বরের উ ধ্বনি ষ্ণ (অ) এর সঙ্গে সন্ধিবদ্ধ হয়ে (উ + অ = অব) 'অব' এ রূপান্তরিত হয়। যেমন- মনু (প্রাতিপদিক/নামপ্রকৃতি) + ষ্ণ/অ (প্রত্যয়) = মানব [ম + অ + ন + উ + ষ্ণ/অ = মানব (উ + অ = অব)]
একইভাবে, শিশু + ষ্ণ (অ) = শৈশব; গুরু + ষ্ণ = গৌরব; লঘু + ষ্ণ = লাঘব; মধু + ষ্ণ = মাধব; মনু + ষ্ণ = মানব ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম ও দশম শ্রেণি; ২০২৩ শিক্ষাবর্ষ)
৩. বিভক্তিহীন নামশব্দকে কী বলে? [১৭তম সি.নি. (কলেজ): ২০২২]
(ক) বিশেষ্য (খ) সমাস (গ) অব্যয় (ঘ) প্রাতিপদিক উ. ঘ
ব্যাখ্যা : বিভক্তিহীন নামশব্দ বা নামপদকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক শব্দটি এসেছে 'প্রতিপদ' থেকে। প্রতিপদ শব্দের অর্থ আরম্ভ। যা থেকে পদের আরম্ভ হয়, তাই প্রাতিপদিক।
উল্লেখ্য যে, প্রাতিপদিক শুধু মৌলিক শব্দ নয়, সাধিত শব্দও হতে পারে। হাত, ঘর, মন প্রভৃতি শব্দ যেমন প্রাতিপদিকের উদাহরণ- তেমনি হিমালয়, শিল্পাগার প্রভৃতি সাধিত শব্দকেও প্রাতিপদিক বলা হয়। এই সূত্র ধরে বলা যায়, বিভক্তিহীন শব্দ মাত্রই প্রাতিপদিক।
ভাষাবিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বিশিষ্ট প্রত্যয়যুক্ত কিন্তু বিভক্তিহীন ধাতু কেউ প্রাতিপদিক বলেছেন। তাঁর মতে, প্রাতিপদিক দুই ভাগে ভাগ বিভক্ত। যথা- (ক) নাম প্রাতিপদিক ও (খ) ক্রিয়া প্রাতিপদিক।
অন্যদিকে,
বিশেষ্য (Noun) হলো এমন একটি পদ, যা কোনো ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, জাতি, কাজ, গুণ বা ধারণার নাম বোঝায়।
যেই প্রক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক শব্দ একত্রিত হয়ে একটি নতুন, সংক্ষিপ্ত এবং অর্থবহ শব্দ গঠন করে, যা ভাষাকে সংক্ষিপ্ত ও শ্রুতিমধুর করে তোলে, তাকে সমাস বলে।
অব্যয় হলো বাক্যে ব্যবহৃত এমন পদ, যা শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত হলেও লিঙ্গ, বচন, কারক বা বিভক্তিভেদে পরিবর্তিত হয় না, বরং অপরিবর্তিত থেকে দুটি শব্দ বা বাক্যাংশের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে ভাব প্রকাশে সহযোগিতা করে।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৪. নিচের কোনটি প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ? [১৭তম সি.নি. (কলেজ): ২০২২]
(ক) বাদী (খ) সভানেত্রী (গ) জেলেনী (ঘ) পেত্নী উ. গ
ব্যাখ্যা : 'নি' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ : জেলে-জেলেলি, বেদে-বেদেনি, ধোপা-ধোপানি।
এরূপ আরো কিছু উদাহরণ-
'ঈ' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ : ছাত্র-ছাত্রী, তরুণ-তরুণী, দাস-দাসী, নর-নারী, পাত্র-পাত্রী ইত্যাদি।
'আনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ : ইন্দ্র-ইন্দ্রানী, মাতুল-মাতুলানী, শূদ্র-শূদ্রানী, হিম-হিমানী (জমানো বরফ) ইত্যাদি।
বিশেষ নিয়মে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ : সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রাণী, যুবক-যুবতী, শ্বশুর-শাশুড়ি, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, স্বামী-স্ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী।
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ : পেত্নী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৫. 'দর্শনীয়' শব্দটির প্রকৃতি ও প্রত্যয়- [১৬তম সি.নি. (কলেজ): ২০১৯]
(ক) দর্শন + ইয় (খ) দৃশ্য + অনীয় (গ) দৃশ্য + নীয় (ঘ) দর্শন + ঈয় উ. খ
ব্যাখ্যা : কৃৎ প্রত্যয় হলো সেইসব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি, যা ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে। যেমন- $\sqrt{\text{দৃশ}}$ + অনীয় = দর্শনীয়।
কৃৎ প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথা- (ক) বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও (খ) সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। উপর্যুক্ত 'দর্শনীয়' শব্দটিতে সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় 'অনীয়' ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং 'দর্শনীয়' শব্দটি সংস্কৃত কৃদন্ত শব্দের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬. বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলে- [১৫তম সি.নি. (কলেজ): ২০১৮]
(ক) প্রাতিপদিক (খ) সাধিত শব্দ (গ) নামপদ (ঘ) ক্রিয়াপদ উ. ক
ব্যাখ্যা : বিভক্তিহীন নামশব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক বা নামপ্রকৃতি। সাধারণভাবে ক্রিয়া কিংবা নামশব্দের মূল অংশ হলো প্রকৃতি।
অন্যদিকে,
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
যে শব্দগুলো বাক্যে বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় হিসেবে কাজ করে, তাদের সম্মিলিতভাবে নামপদ বলা হয়।
যে পদ দিয়ে কোনো কাজ করা, হওয়া ইত্যাদি বোঝায় সেগুলোকে বলে ক্রিয়াপদ। উল্লেখ্য যে, নামপদগুলো বাক্যে কখনোই ক্রিয়াপদের ভূমিকা পালন করতে পারে না।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৭. 'দীপ্যমান' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় সঠিক কোনটি? [১৪তম সি.নি. (কলেজ): ২০১৭]
(ক) $\sqrt{\text{দীপ্য}}$ + মান (খ) $\sqrt{\text{দিপ্য}}$ + মানচ (গ) $\sqrt{\text{দীপ}}$ + শানচ (ঘ) $\sqrt{\text{দীপ}}$ + শানচ উ. ব্যাখ্যা দেখুন
ব্যাখ্যা : 'দীপ্যমান' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় হলো $\sqrt{\text{দীপ}}$ + শানচ্ (মান)।
এটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ। এছাড়াও 'শানচ্' প্রত্যয়যোগে গঠিত আরও শব্দ হলো চলমান, বর্ধমান ইত্যাদি।
৮. 'নয়ন'-শব্দটির সঠিক প্রত্যয় নির্ণয়- [১৩তম সি.নি. (কলেজ): ২০১৬]
(ক) নী + অন (খ) নে + অন (গ) নৌ + অন (ঘ) নয় + ন উ. ক
ব্যাখ্যা : 'নয়ন' শব্দটি বাংলা কৃদন্ত শব্দ। শব্দটির ধাতু '$\sqrt{\text{নী}}$' ও বাংলা কৃৎ প্রত্যয় 'অন'।
অর্থাৎ, নয়ন = নী + অন। স্বরসন্ধির নিয়ম অনুসারে, 'ই' ধ্বনির পরে 'অ' ধ্বনি এলে, উভয় মিলে 'য়' ধ্বনি তৈরি হয়। এই সূত্রানুসারে, $\sqrt{\text{নী}}$ ধাতুর 'ই' ধ্বনির সঙ্গে 'অন' প্রত্যয় (ই + অ = য়) যুক্ত হয়ে 'নয়ন' কৃদন্ত শব্দটি গঠিত হয়েছে।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯. 'পাঠক' শব্দের যথার্থ প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? [১২তম সি.নি. (কলেজ): ২০১৫]
(ক) পাঠ + অক (খ) $\sqrt{\text{পঠ}}$ + অক (গ) পা + ঠক (ঘ) পাঠ + টক উ. খ
ব্যাখ্যা : কৃৎ প্রত্যয় সাধিত 'পাঠক' শব্দের যথার্থ প্রকৃতি ও প্রত্যয় = $\sqrt{\text{পঠ}}$ + অক। কৃদন্ত শব্দ '$\sqrt{\text{পঠ}}$' অংশটি হলো ধাতু আর 'অক' হলো সংস্কৃত প্রত্যয়। অর্থাৎ, পাঠক শব্দটি হলো সংস্কৃত কৃদন্ত শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০. প্রত্যয় কয় প্রকার? [১১তম সি.নি. (কলেজ): ২০১৪]
(ক) এক (খ) দুই (গ) তিন (ঘ) চার উ. খ
ব্যাখ্যা : প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথা: (ক) কৃৎ প্রত্যয় ও (খ) তদ্ধিত প্রত্যয়।
ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন- $\sqrt{\text{চল}}$ (ধাতু) + অন্ত (প্রত্যয়) = চলন্ত, $\sqrt{\text{কৃ}}$ (ধাতু) + তব্য (প্রত্যয়) = কর্তব্য প্রভৃতি।
উল্লেখ্য যে, বাংলা ভাষায় দুইধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা: (ক) বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও (খ) সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
তদ্ধিত প্রত্যয় : নামশব্দের শেষে যেসব ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। যেমন– চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা, ডিঙি + আ = ডিঙা, বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা প্রভৃতি।
বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার। যথা:
(ক) বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
(খ) সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
(গ) বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
উৎস: ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
১১. কোনটি কৃৎ-প্রত্যয়ের উদাহরণ? [১০তম সি.নি. (কলেজ): ২০১৪]
(ক) ঢাকা + ই (খ) মিশ্ + উক (গ) চোর + আ (ঘ) সোনা + আলি উ. খ
ব্যাখ্যা : নামশব্দ বা ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে তাকে প্রত্যয় বলে। প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথা: (ক) কৃৎ প্রত্যয় ও (খ) তদ্ধিত প্রত্যয়। কোনো একটি প্রত্যয় কৃৎ নাকি তদ্ধিত হবে, তা নির্ভর করে প্রত্যয়টি নামশব্দ নাকি ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তার উপর।
উপর্যুক্ত মিশ্ + উক = মিশুক হলো কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ। কারণ 'মিশুক' কৃদন্ত শব্দটিতে ক্রিয়ামূল বা ধাতু '$\sqrt{\text{মিশ্}}$'-এর সঙ্গে প্রত্যয় হিসেবে 'উক' যুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, উদাহরণগুলোর ঢাকা, চোর, সোনা প্রতিটি অংশই নামশব্দ বা নামপদ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
স্কুল পর্যায়
১২. নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ? [১৮তম সি.নি. (স্কুল): ২০২৪]
(ক) হাত + ল = হাতল (খ) চল্ + অন্ত = চলন্ত (গ) রাধ্ + না = রান্না (ঘ) কোনোটিই নয় উ. ক
ব্যাখ্যা : নামশব্দের শেষে যেসব ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। যেমন- হাত + ল = হাতল। এখানে 'হাত' হচ্ছে নামশব্দ ও 'ল' হচ্ছে তদ্ধিত প্রত্যয়।
Concrete, $\sqrt{\text{চল্}}$ + অন্ত = চলন্ত ও $\sqrt{\text{রাধ্}}$ + না = রান্না হলো কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ। কারণ $\sqrt{\text{চল্}}$ ও $\sqrt{\text{রাধ্}}$ উভয়ই হলো ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১৩. 'শ্রবণ' শব্দটির প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? [১৭তম সি.নি. (স্কুল): ২০২২]
(ক) শ্রবণ + অ (খ) $\sqrt{\text{শ্রী}}$ + অন (গ) $\sqrt{\text{শ্রু}}$ + অন (ঘ) $\sqrt{\text{শ্রব}}$ + অন উ. গ
ব্যাখ্যা : 'শ্রবণ' কৃদন্ত শব্দটিকে ভাঙলে ধাতু বা ক্রিয়ামূল '$\sqrt{\text{শ্রু}}$' ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় 'অন' পাওয়া যায়।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪. 'মুক্তি'-এর প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? [১৭তম সি.নি. (স্কুল): ২০২২]
(ক) $\sqrt{\text{মুচ্}}$ + ক্তি (খ) $\sqrt{\text{মুহ্}}$ + ক্তি (গ) $\sqrt{\text{মুক্}}$ + ক্তি (ঘ) $\sqrt{\text{মুচ্}}$ + তি উ. ক
ব্যাখ্যা : সংস্কৃত কৃদন্ত শব্দ 'মুক্তি' বিশ্লেষণ করলে ধাতু '$\sqrt{\text{মুচ্}}$' ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় 'ক্তি' পাওয়া যায়। নিয়ম অনুসারে যদি কোনো ধাতুর শেষে চ বা ছ থাকে, তবে 'ক্ত' প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার সময় ওই 'চ' বা 'ছ' এর স্থলে 'ক্' হয়ে যায়। যেমন- $\sqrt{\text{মুচ্}}$ + ক্তি = মুক্তি, $\sqrt{\text{ভজ্}}$ + ক্তি = ভক্তি প্রভৃতি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১৫. ক্রিয়া বা ধাতুর পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলে- [১৬তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) ধাতু প্রত্যয় (খ) শব্দ প্রত্যয় (গ) কৃৎ প্রত্যয় (ঘ) তদ্ধিত প্রত্যয় উ. গ
ব্যাখ্যা : ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে। কৃৎপ্রত্যয় সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। যেমন- পড়্ + আ = পড়া। এখানে 'পড়া' শব্দটি কৃদন্ত শব্দ। কৃৎ প্রত্যয়ে ধাতুর আগে ক্রিয়ামূল বা ধাতুজ্ঞাপক চিহ্ন $\sqrt{}$ বসে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
১৬. নিচের কোন শব্দটি প্রাতিপদিক? [১৫তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) লাঙ্গল (খ) দম্পতি (গ) লেখা (ঘ) সাধিত উ. ক
ব্যাখ্যা : বিভক্তিহীন নামশব্দ বা নামপদকে প্রাতিপদিক বলা হয়। উদাহরণ- মন, হাত প্রভৃতি। উপর্যুক্ত উদাহরণের 'লাঙ্গল' একটি মৌলিক নামশব্দ। এর সঙ্গে কোনো বিভক্তি বা প্রত্যয় যুক্ত হয়নি। এই সূত্র ধরে 'লাঙ্গল' শব্দটি প্রাতিপদিক।
অন্যদিকে, 'দম্পতি' একটি সমাসবদ্ধ শব্দ (জায়া ও পতি = দম্পতি); 'লেখা' একটি কৃদন্ত শব্দ ($\sqrt{\text{লিখ্}}$ + আ = লেখা)। আর 'সাধিত' একটি কৃদন্ত বিশেষণ পদ (সাধন + ইত = সাধিত)।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
১৭. 'দীপ্যমান' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? [১৫তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) $\sqrt{\text{দীপ্য}}$ + মান (খ) $\sqrt{\text{দিপ্য}}$ + মানচ (গ) $\sqrt{\text{দিপ}}$ + শানচ (ঘ) $\sqrt{\text{দীপ}}$ + শানচ উ. ঘ
ব্যাখ্যা : 'দীপ্যমান' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় হলো $\sqrt{\text{দীপ}}$ + শানচ্ (মান)। এছাড়াও 'শানচ্' প্রত্যয়যোগে গঠিত আরও শব্দ হলো চলমান, বর্ধমান, বর্তমান ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
১৮. কোনটি 'নিপাতনে সিদ্ধ' প্রত্যয়যুক্ত শব্দ? [১৫তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) শৈব (খ) সৌর (গ) দৈব (ঘ) চৈত্র উ. খ
এখানে আপনার আপলোড করা পঞ্চম পেজের সম্পূর্ণ টেক্সট নির্ভুলভাবে টাইপ এবং ফরম্যাট করে দেওয়া হলো:
বাংলা ❑ ৩৫
ব্যাখ্যা : নিপাতনে সিদ্ধ প্রত্যয় বলতে বোঝায় সেইসব প্রত্যয়কে, যা ব্যাকরণের সাধারণ নিয়ম মেনে গঠিত হয় না, বরং কিছু ব্যতিক্রমী ও প্রথাগত নিয়মের বাইরে গিয়ে বিশেষ শব্দ গঠনে ব্যবহৃত হয়। যেমন– বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি, বনস্পতি = বন + পতি, পরস্পর = পরপর প্রভৃতি।
উপর্যুক্ত উদাহরণগুলোর মধ্যে 'সৌর' হলো নিপাতনে সিদ্ধ প্রত্যয়। প্রকৃতি-প্রত্যয়ের সাধারণ নিয়মে অনুসারে সুর + ষ্ণ (অ) = সৌর হতো। নিপাতনে সিদ্ধ হওয়ার কারণে সূর্য + ষ্ণ = সৌর হয়েছে।
অন্যদিকে, 'শৈব'- শিব + ষ্ণ (অ), 'দৈব'- দেব + ষ্ণ (অ), 'চিত্র' + ষ্ণ (অ) সবগুলোই প্রকৃতি প্রত্যয়ের নিয়ম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
১৯. গুণ ও বৃদ্ধি বলা হয়- [১৫তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) কৃৎ-প্রকৃতির আদিস্বরের পরিবর্তনকে (খ) কৃৎ-প্রকৃতির অন্ত্যস্বরের পরিবর্তনকে
(গ) নাম-প্রকৃতির পরিবর্তনকে (ঘ) প্রাতিপদিকের পরিবর্তনকে উ. ক
ব্যাখ্যা : ব্যাকরণে গুণ ও বৃদ্ধি হলো স্বরধ্বনির পরিবর্তন, যা মূলত সংস্কৃত থেকে আগত ক্রিয়ামূল বা ধাতুতে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হলে ঘটে। যেমন- $\sqrt{\text{নী}}$ + আ = নেওয়া।
(১) গুণের ক্ষেত্রে স্বরধ্বনির তিন ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। যথা-
ই, ঈ $\rightarrow$ এ হয়;
উ, ঊ $\rightarrow$ ও;
ঋ $\rightarrow$ অর হয়।
(২) বৃদ্ধির ক্ষেত্রে স্বরধ্বনির তিন ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। যথা-
অ-স্থলে আ,
ই ও ঈ $\rightarrow$ ঐ;
উ ও ঊ $\rightarrow$ ঔ;
ঋ $\rightarrow$ আর হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২০. 'বক্তব্য'-এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি? [১৪তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৭]
(ক) $\sqrt{\text{বক্}}$ + তব্য (খ) $\sqrt{\text{বক্}}$ + অব্য
(গ) $\sqrt{\text{বক্ত}}$ + ব্য (ঘ) $\sqrt{\text{বচ্}}$ + তব্য উ. ঘ
ব্যাখ্যা : সংস্কৃত কৃদন্ত শব্দ 'বক্তব্য' বিশ্লেষণ করলে ধাতু '$\sqrt{\text{বচ্}}$' ও সংস্কৃতি কৃৎ প্রত্যয় 'তব্য' পাওয়া যায়। নিয়ম অনুসারে, যদি কোনো ধাতুর শেষে চ বা ছ থাকে, তবে 'ত' প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার সময় ওই 'চ' বা 'ছ' এর স্থলে 'ক্' হয়ে যায়। যেমন- $\sqrt{\text{বচ্}}$ + তব্য।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২১. নিচের কোনটি 'সৃষ্টি'-এর প্রকৃতি ও প্রত্যয়? [১৪তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৭]
(ক) $\sqrt{\text{সৃষ্}}$ + টি (খ) $\sqrt{\text{সৃষ্}}$ + তি (গ) $\sqrt{\text{সৃজ্}}$ + তি (ঘ) $\sqrt{\text{স্রী}}$ + টি উ. গ
ব্যাখ্যা : সংস্কৃত কৃদন্ত শব্দ 'সৃষ্টি' বিশ্লেষণ করলে ধাতু '$\sqrt{\text{সৃজ্}}$' ও সংস্কৃতি কৃৎ প্রত্যয় 'তি' পাওয়া যায়। নিয়ম অনুসারে, যদি কোনো ধাতুর শেষে 'জ্' থাকে, তবে 'ত' প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার সময় ওই 'জ্' এর স্থলে 'ষ্' হয়, এবং 'ত' প্রত্যয়টি পরিবর্তিত হয়ে 'ট' হয়ে যায়। যেমন- $\sqrt{\text{সৃজ্}}$ + তি = সৃষ্টি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২২. 'মানব' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? [১৩তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৬]
(ক) মনু + ষ্ণ (খ) মনু + অব
(গ) মা + নব (ঘ) মান + অব উ. ক
ব্যাখ্যা : 'মানব' একটি বাংলা তদ্ধিতান্ত শব্দ। এই শব্দটিকে ভাঙলে নামশব্দ 'মনু' ও বাংলা তদ্ধিতप्रत्यय ষ্ণ (অ) পাওয়া যায়।
২৩. 'মহিমা' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? [১৩তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৬]
(ক) মহি + মা (খ) মহৎ + ইমন
(গ) মহা + ইমা (ঘ) মহিম + আ উ. খ
ব্যাখ্যা : 'মহিমা' তদ্ধিতান্ত শব্দের নামপদ অর্থাৎ প্রকৃতি হলো মহৎ ও সংস্কৃত তদ্ধিতান্ত প্রত্যয় হলো ইমন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
২৪. নিচের কোনটি প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ? [১২তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৫]
(ক) বাদী (খ) সভানেত্রী (গ) জেলেনি (ঘ) পেত্নী উ. গ
ব্যাখ্যা : নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়।
এ রকম কয়েকটি প্রত্যয় হলো:
আ প্রত্যয় : বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রিয়-প্রিয়া, কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা;
ই প্রত্যয় : দাদা-দাদি, জেঠা-জেঠি, পাগল-পাগলি;
ইনি প্রত্যয় : কাঙাল-কাঙালিনি, বাঘ-বাঘিনি;
ইনী প্রত্যয় : বিজয়ী-বিজয়িনী, যোগী-যোগিনী, তেজস্বী-তেজস্বিনী;
ঈ প্রত্যয় : কিশোর-কিশোরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী;
নি প্রত্যয় : জেলে-জেলেনি, বেদে-বেদেনি, ধোপা-ধোপানি;
বতী প্রত্যয় : গুণবান-গুণবতী, পুণ্যবান-পুণ্যবতী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
২৫. 'শৈশব'-এর প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? [১২তম সি.নি. (স্কুল): ২০১৫]
(ক) শিশু + ষ্ণ (খ) শিশু + ষ্ণ্য
(গ) শিশু + শব্দ (ঘ) শৈ + শব উ. ক
লিঙ্গ/পুরুষবাচক শব্দ, দ্বিরুক্ত বাচক শব্দ/শব্দ দ্বিত্ব, পদাশ্রিত নির্দেশক ও বচন
| NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | ||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | |||
| ১৮তম | ০ | ২ | ১ | ১৩তম | ০ | ০ | ১ | ৮ম | ০ | ০ | ০ |
| ১৭তম | ০ | ২ | ১ | ১২তম | ০ | ২ | ২ | ৭ম | ০ | ০ | ০ |
| ১৬তম | ১ | ১ | ১ | ১১তম | ১ | ২ | ২ | ৬ষ্ঠ | ০ | ০ | ০ |
| ১৫তম | ০ | ১ | ২ | ১০ম | ০ | ১ | ১ | বিশেষ | ০ | ০ | ০ |
| ১৪তম | ০ | ১ | ২ | ৯ম | ০ | ০ | ০ | মোট | ২ | ১২ | ১৩ |
কলেজ পর্যায়
১. 'সাথী' শব্দটি কোন লিঙ্গ? [১৬তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৯]
(ক) পুংলিঙ্গ (খ) স্ত্রীলিঙ্গ
(গ) ক্লীব লিঙ্গ (ঘ) উভয় লিঙ্গ উ. ঘ
ব্যাখ্যা: 'সাথী' শব্দটি দ্বারা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় বোঝায়, তাই 'সাথী' শব্দটি উভয় লিঙ্গ।
যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, স্ত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে। লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ। বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো-
i. পুংলিঙ্গ ii. স্ত্রীলিঙ্গ iii. ক্লীবলিঙ্গ iv. উভয়লিঙ্গ।
উভয়লিঙ্গ: যেসব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গ উভয়ই বোঝায় তাদেরকে উভয়লিঙ্গ বলে। উদাহরণ- শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, কবি, জন, পাখি, সন্তান, শিক্ষিত, গুরু, মানুষ, বাঙালি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
২. কোনটি নিত্য নারীবাচক শব্দ? [১১তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৪]
(ক) জেনানা (খ) সতীন (গ) শিক্ষিকা (ঘ) ধাত্রী উ. খ
ব্যাখ্যা: নিত্য নারীবাচক শব্দ সতীন।
অন্যান্য অপশন:
জেনানা, শিক্ষিকা, ধাত্রী শব্দগুলো স্ত্রীলিঙ্গ যাদের পুরুষবাচক শব্দ যথাক্রমে মরদ, শিক্ষক, দাতা।
সাধারণত নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের। যথা:
i. পত্নীবাচক ও ii. অপত্নীবাচক
পত্নীবাচক: স্বামী স্ত্রী সম্পর্ক বুঝালে তা পত্নীবাচক শব্দ হয়। যেমন- দাদা-দাদি, চাচা-চাচি, জেলে-জেলেনি ইত্যাদি।
অপত্নীবাচক: স্বামী স্ত্রী সম্পর্ক না বুঝালে তা অপত্নীবাচক শব্দ হয়। যেমন- খোকা-খুকি, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, নেতা-নেত্রী ইত্যাদি।
কিছু শব্দ আছে যা নিত্য নরবাচক ও নিত্য নারীবাচক।
নিত্য নারীবাচক/স্ত্রীবাচক শব্দ: কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে। যেমন- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, বিধবা, দাই, বারবনিতা, কুলটা, অরক্ষণীয়া, অসূর্যম্পশ্যা, সপত্নী, গর্ভবতী, ডাইনী ইত্যাদি।
নিত্য নরবাচক শব্দ: কৃতদার, অকৃতদার।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি), ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
স্কুল পর্যায়
৩. 'আমি' শব্দটি কোন লিঙ্গ? [১৮তম শি.নি. (স্কুল): ২০২৪, ১১তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪]
(ক) পুংলিঙ্গ (খ) স্ত্রী লিঙ্গ (গ) ক্লীব লিঙ্গ (ঘ) উভয় লিঙ্গ উ. ঘ
ব্যাখ্যা: 'আমি' শব্দটি উভয়লিঙ্গ।
উভয়লিঙ্গ: বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যেগুলো কোনোটি পুরুষ জাতীয়, কোনোটি স্ত্রী জাতীয়, কোনোটি আবার স্ত্রী-পুরুষ উভয়কেই বোঝায়। যে শব্দ দ্বারা স্ত্রী বা পুরুষ উভয় বোঝায়, তা উভয়লিঙ্গ।
বাংলা ভাষায় সর্বনাম শব্দে নারী-পুরুষবাচক পার্থক্য করা হয় না। আমি, তুমি, সে, তারা ইত্যাদি সর্বনাম স্ত্রী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই একই রূপে ব্যবহৃত হয়।
লিঙ্গ চার প্রকার। যথা-
i. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ- বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর ইত্যাদি।
ii. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ- মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী ইত্যাদি।
iii. উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ- মানুষ, শিশু, সন্তান, বাঙালি ইত্যাদি।
iv. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ- বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৪. কোনটির আগে স্ত্রীবাচক শব্দ যুক্ত করে লিঙ্গান্তর করতে হয়? [১৮তম শি.নি. (স্কুল): ২০২৪, ১৫তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) নেতা (খ) কবি (গ) দাতা (ঘ) বাদশাহ উ. খ
ব্যাখ্যা: কবি শব্দের আগে মহিলা যুক্ত করে লিঙ্গান্তর করতে হয়। তাহলে, কবি = মহিলা কবি।
কতগুলো পুরুষবাচক শব্দের আগে স্ত্রীবাচক শব্দ প্রয়োগ করে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়। যেমন-
| ডাক্তার - মহিলা ডাক্তার | সভা - মহিলা সভা |
| কর্মী - মহিলা কর্মী | শিল্পী - মহিলা/নারী শিল্পী |
| পুলিশ - মহিলা পুলিশ | সৈন্য - মহিলা/নারী সৈন্য |
অন্যান্য অপশন:
নেতা = নেত্রী
দাতা = দাত্রী
বাদশাহ = বেগম
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ: কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে। যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি (ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন)।
৫. 'রজক'-এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি? [১৭তম শি.নি. (স্কুল): ২০২২]
(ক) রজকা (খ) রজকী (গ) রজকিনী (ঘ) রজকানী উ. ব্যাখ্যা দেখুন।
ব্যাখ্যা: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
রজক (বিশেষ্য): বাংলা শব্দ
অর্থ: ধোপা
স্ত্রীবাচক শব্দ: রজকিনী।
মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে 'রজক'-এর স্ত্রীবাচক শব্দ রজকী।
কতগুলো পুংলিঙ্গ শব্দের শেষে 'ইনী' প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীলিঙ্গ করা হয়। যেমন-
| গোয়ালা = গোয়ালিনী | কাঙাল = কাঙালিনী |
| বিহঙ্গ = বিহঙ্গিনী | সাপ = সাপিনী |
| সন্ন্যাস = সন্ন্যাসিনী | বাঘ = বাঘিনী |
৬. নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি? [১৭তম শি.নি. (স্কুল): ২০২২]
(ক) জেঠী (খ) পাগলী (গ) বেগামী (ঘ) সৎমা উ. ঘ
ব্যাখ্যা: সৎমা নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: আবার কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক, এদের পুরুষবাচক শব্দ নেই, এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে। যেমন- সতীন, সৎমা, সধবা, এয়ো, দাই ইত্যাদি।
অন্যান্য অপশন:
জেঠী, পাগলী, বেগমী শব্দগুলোর পুরুষবাচক শব্দ যথাক্রমে জেঠা, পাগল, বেগ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৭. 'নাটিকা' কোন অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ? [১৬তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) সমার্থে (খ) ক্ষুদ্রার্থে (গ) বৃহৎ অর্থে (ঘ) বিপরীতার্থে উ. খ
ব্যাখ্যা: 'নাটিকা' ক্ষুদ্রার্থে স্ত্রীবাচক শব্দ।
'ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন-
| নাটক = নাটিকা | মালা = মালিকা |
| গীত = গীতিকা | পুস্তক = পুস্তিকা |
এগুলো স্ত্রী প্রত্যয় নয়, ক্ষুদ্রার্থক প্রত্যয়।
উল্লেখ, বৃহৎ অর্থে 'আনী'-প্রত্যয় যোগে অরণ্য = অরণ্যানী (বৃহৎ অরণ্য)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৮. নিচের কোন শব্দটির পুরুষ বাচক শব্দ নেই? [১৪তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৭]
(ক) বাদী (খ) দাত্রী (গ) তাদৃশী (ঘ) ডাইনী উ. ঘ
ব্যাখ্যা: ডাইনী শব্দটির পুরুষ বাচক শব্দ নেই। এটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।
কিছু নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: সপত্নী, বিধবা, কুলটা, অর্ধাঙ্গিনী, ডাইনী, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া।
কিছু নিত্য পুরুষবাচক কিছু শব্দ: কবিরাজ, ঢাকী, কৃতদার, অকৃতদার ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৯. নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ? [১২তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৫]
(ক) ডাইনি (খ) সম্রাজ্ঞী (গ) মানুষ (ঘ) সভানেত্রী উ. ক
ব্যাখ্যা: ডাইনি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ। কিছু কিছু স্ত্রীবাচক শব্দের পুরুষবাচক শব্দ নেই, তাদের নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ শব্দ বলে। যেমন- সধবা, বিধবা, সতীন, ললনা, পোয়াতি লক্ষ্মী, সুজলা, সুফলা, অধীরা, পেত্নী, ডাইনি, শাঁখচুন্নী, কুলটা, বিমাতা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
সম্রাজ্ঞী- সম্রাট এর স্ত্রীবাচক শব্দ।
মানুষ - উভয় লিঙ্গ।
সভানেত্রী- সভাপতি এর স্ত্রীবাচক শব্দ।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
১০. 'মরদ'-এর বিপরীত লিঙ্গ কোনটি? [১২তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৫]
(ক) মর্দ (খ) জেনানা (গ) জেনানী (ঘ) মরদী উ. খ
ব্যাখ্যা: 'মরদ'-এর বিপরীত লিঙ্গ জেনানা।
কয়েকটি বিদেশি নারী বাচক শব্দ-
| খান-খানম | মালেক-মালেকা |
| মুহতামিম-মুহতামিমা | সুলতান-সুলতানা |
| মরদ-জেনানা | বাদশা-বেগম |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১১. বাংলা ব্যাকরণ কোন পদে সংস্কৃতির লিঙ্গের নিয়ম মানে না? [১১তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪]
(ক) বিশেষণ (খ) অব্যয় (গ) সর্বনাম (ঘ) বিশেষ্য উ. ক
ব্যাখ্যা: বাংলা ব্যাকরণের বিশেষণ পদ সংস্কৃত লিঙ্গের নিয়ম মানে না।
তৎসম (সংস্কৃত) পুরুষবাচক বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে পুরুষবাচক বিশেষণ ব্যবহৃত হয় এবং স্ত্রীবাচক বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে স্ত্রীবাচক বিশেষণ ব্যবহৃত হয়। যেমন-
বিদ্যান লোক এবং বিদুষী নারী। এখানে, 'লোক' পুরুষবাচক বিশেষ্য এবং 'নারী' স্ত্রীবাচক বিশেষ্য। 'বিদ্যান' পুরুষবাচক বিশেষণ এবং 'বিদুষী' স্ত্রীবাচক বিশেষণ।
কিন্তু, বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে সংস্কৃত ব্যাকরণের এ নিয়ম মানা হয় না। যেমন- সংস্কৃতে 'সুন্দর বালক' ও 'সুন্দরী বালিকা' হবে কিন্তু বাংলায় 'সুন্দর বালক' ও 'সুন্দর বালিকা' হবে।
লিঙ্গ পরিবর্তনের কিছু নিয়ম:
বাংলা লিখিত ভাষায় কখনো কখনো সংস্কৃত প্রধান শৈলীতে বিশেষ্য ও বিশেষণের লিঙ্গসাযুজ্য ঘটে। যেমন- দুষ্ক্রিণী, অভাগিনী, বিপুলা।
বাংলা ভাষায় সর্বনাম শব্দে নারী-পুরুষবাচক পার্থক্য করা হয় না। আমি, তুমি, সে, তারা, এটা, ওটা ইত্যাদি সর্বনাম স্ত্রী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই একই রূপে ব্যবহৃত হয়।
তৎসম পুরুষবাচক শব্দের শেষে -আ, -ঈ, -আনী, -নী ইত্যাদি নারীবাচক প্রত্যয় যোগে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তিত করা হয়।
ভিন্ন ভিন্ন নারীবাচক প্রত্যয় যোগে একই পুরুষবাচক শব্দের একাধিক নারীবাচক রূপ হতে পারে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
১২. নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ? [১০ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪]
(ক) মা (খ) মেয়ে (গ) ছাত্রী (ঘ) সতীন উ. ঘ
ব্যাখ্যা: সতীন নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।
মা, মেয়ে, ছাত্রী শব্দগুলোর পুরুষবাচক শব্দ যথাক্রমে বাবা, ছেলে, ছাত্র।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
স্কুল পর্যায়-২
১৩. 'অনাথ'-এর স্ত্রীলিঙ্গ কী? [১৮তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০২৪]
(ক) অনাথীনি (খ) অনাথিনী (গ) অনাথি (ঘ) নাথবতী উ. খ
ব্যাখ্যা: অনাথ-এর স্ত্রীলিঙ্গ অনাথা।
উল্লেখ্য, অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বইয়ে অনাথিনী শব্দটি 'অনাথ'-এর স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে, অনাথিনী শব্দটি অপ্রয়োগ। অপশনে 'অনাথা' না থাকায় অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই অনুযায়ী 'অনাথিনী' সঠিক উত্তর হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্গান্তর :
| হুকু = হুকুরাইন | মৎস্য = মৎস্যী |
| মনুষ্য = মনুষী | মানুষ = মা |
| গো = গবী | বিধাতা = বিধাত্রী |
| শুক = শারি | দুলহা = দুলাইন |
| মর্দা ঘোড়া = মাদি ঘোড়া | ঠাকুর = ঠাকুরুন/ঠাকরুন/ঠাকুরানী |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (অষ্টম শ্রেণি)।
১৪. পুরুষ বা স্ত্রী নির্দেশক সূত্রকে ব্যাকরণে কী বলে? [১৭তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০২২]
(ক) বচন (খ) লিঙ্গ (গ) বাক্য (ঘ) বাগর্থ উ. খ
ব্যাখ্যা: লিঙ্গের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায় তাকে লিঙ্গ বলে। 'লিঙ্গ' শব্দের অর্থ চিহ্ন। এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো লিঙ্গ + অ = লিঙ্গ। লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণিবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
বাংলা ভাষার লিঙ্গান্তর নিম্নলিখিতভাবে হয়ে থাকে-
১. পুংলিঙ্গবাচক শব্দের শেষে প্রত্যয় যোগ করে।
২. স্ত্রীবাচক শব্দ আগে বা পরে বসিয়ে এবং
৩. ভিন্ন শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
১৫. নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ? [১৬তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৯]
(ক) কুলটা (খ) যোগিনী (গ) রজকী (ঘ) চাতকী উ. ক
ব্যাখ্যা: কুলটা নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।
যোগিনী, রজকী, চাতকী শব্দগুলোর পুরুষবাচক শব্দ যথাক্রমে যোগী, রজক, চাতক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১৬. নিচের কোনটির পুরুষবাচক শব্দ আছে? [১৫তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৮]
(ক) দাই (খ) এয়ো (গ) সারী (ঘ) সধবা উ. গ
ব্যাখ্যা: 'সারী' এর পুরুষবাচক শব্দ- 'শুক'।
তাছাড়া,
অপশনগুলোর মধ্যে এয়ো, দাই, সধবা- নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১৭. 'ঠাকুর' শব্দের লিঙ্গান্তর কোনটি? [১৫তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৮]
(ক) ঠাকুরনাইন (খ) ঠাকুরানি (গ) ঠাকুরণী (ঘ) ঠাকুরণি উ. খ
ব্যাখ্যা: 'ঠাকুর' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ- 'ঠাকুরানি'।
'ঠাকুর' শব্দটির 'আনী/আনি' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ- 'ঠাকুরানি'।
'আনী/আনি' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
| মেথর = মেথরানী | চাকর = চাকরানী |
| হিম = হিমানী | ইন্দ্র = ইন্দ্রানী |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১৮. 'নী' প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তর হয়েছে কোন শব্দটি? [১৪তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৭] (ক) অরণ্যানী (খ) চাকরানী (গ) ভাগনী (ঘ) মেধাবিনী উ. ঘ
ব্যাখ্যা: 'নী' প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তর হয়েছে = মেধাবি + নী।
'আনী' প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ : অরণ্যানী = অরণ্য + আনী।
'আনী' প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ : চাকরানী = চাকর + আনী।
'ঈ' প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ : ভাগনী = ভাগনা+ঈ। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, বানানটি ভাগনি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১৯. 'শুক' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি? [১৪তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৭] (ক) সারী (খ) শারী (গ) শুকী (ঘ) সারা উ. ব্যাখ্যা দেখুন।
ব্যাখ্যা: 'শুক' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ- 'শারি'। উত্তরপত্রের বানান ভুল ছিল। 'সারী'-এর পরিবর্তে 'শারি' হবে। উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২০. 'নাটিকা' শব্দটি কোন অর্থে স্ত্রীবাচক? [১৩তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৬] (ক) সমার্থে (খ) বিপরীতার্থে (গ) ক্ষুদ্রার্থে (ঘ) বৃহৎার্থে উ. গ
ব্যাখ্যা: 'নাটিকা' শব্দটি 'ক্ষুদ্রার্থে' স্ত্রীবাচক শব্দ। এটি 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
২১. বিশেষ নিয়মে গঠিত স্ত্রী বাচক শব্দ কোনটি? [১২তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৫] (ক) বালক-বালিকা (খ) দুঃখী-দুঃখিনী (গ) খান-খানম (ঘ) নর-নারী উ. ঘ
ব্যাখ্যা: নর থেকে বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ নারী। অন্য অপশন:
বালক থেকে বালিকা- ইকা প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।
দুঃখী থেকে দুঃখিনী- ইনি/ইনী প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।
খান থেকে খানম- বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ।
বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দের কিছু নিয়ম :
যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে 'ত্রী' হয়। যেমন- কর্তা-কর্ত্রী, শ্রোতা-শ্রোত্রী ইত্যাদি।
পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতী, ইয়সী হয়। যথা- সৎ-সতী, মহৎ-মহতী ইত্যাদি।
কোন কোন পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়। যেমন- রাজা-রানী, নর-নারী ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
২২. নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ? [১২তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৫] (ক) এয়ো (খ) কবিরাজ (গ) সন্তান (ঘ) কৃতদার উ. ক
ব্যাখ্যা: এয়ো- নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ। অর্থ: সধবা নারী।
অন্যান্য অপশন:
সন্তান- উভয় লিঙ্গ।
কবিরাজ, কৃতদার- নিত্য পুরুষবাচক শব্দ।
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ : কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে। যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী, যোদ্ধা, সেনাপতি, দলপতি, বিচারপতি ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)) এবং বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৩. কোনটির স্ত্রীলিঙ্গ ভিন্ন শব্দ? [১১তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪] (ক) বিদ্বান (খ) গায়ক (গ) কোকিল (ঘ) দাদা উ. ক
ব্যাখ্যা: অপশনে প্রদত্ত শব্দ গুলোর মধ্যে 'বিদ্বান' এর স্ত্রীবাচক শব্দটি হচ্ছে বিদুষী।
কিছু নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল থাকে না। যেমন- ভাই-বোন, পিতা-মাতা, ছেলে-মেয়ে, বর-কনে, বাদশা-বেগম, সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রানি, যুবক-যুবতী, শ্বশুর-শাশুড়ি, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, স্বামী-স্ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী, বাবা-মা, কর্তা-গিন্নি, সাহেব-বিবি, জামাই-মেয়ে, দুলহা-দুলাইন/দুলহিন, বেয়াই-বেয়াইন, তাতই-মাঐ, শুক-শারী ইত্যাদি।
অন্যান্য অপশন:
গায়ক এর স্ত্রীবাচক শব্দ গায়িকা (ইকা প্রত্যয় যোগে গঠিত)।
কোকিল এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোকিলা (আ প্রত্যয় যোগে গঠিত)।
দাদা এর স্ত্রীবাচক শব্দ দিদি (বড় বোন)/বৌদি (দাদার স্ত্রী)। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
২৪. কোনটির শুধুমাত্র স্ত্রীবাচক হয়? [১১তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪] (ক) সন্তান (খ) সতীন (গ) ঢাকী (ঘ) ঘোষজা উ. খ
ব্যাখ্যা: সতীন নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ। কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক। এসকল শব্দের শুধুমাত্র স্ত্রীবাচক হয়ে থাকে। এগুলোর পুরুষবাচক শব্দ নেই। কিছু নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হলো- সতীন, সৎমা, এয়ো, দাই, সধবা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
সন্তান = উভয় লিঙ্গ।
ঢাকী = নিত্য পুরুষবাচক শব্দ।
ঘোষ (পুরুষ) = ঘোষজা (কন্যা অর্থে)/ঘোষজায়া (পত্নী অর্থে)। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
২৫. কোন শব্দটির কোনো স্ত্রীবাচক শব্দ হয় না? [১০ম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪]
(ক) অজ (খ) নর (গ) কবিরাজ (ঘ) কবি উ. গ
ব্যাখ্যা: কবিরাজ শব্দটির কোনো স্ত্রীবাচক শব্দ হয় না। কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে। যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
অজ - অজা (আ প্রত্যয় যোগে গঠিত)।
নর - নারী (আলাদা স্ত্রীবাচক শব্দ)।
কবি - মহিলা কবি (পুরুষবাচক শব্দের আগে স্ত্রীবাচক শব্দ প্রয়োগ করে)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
সমাস
| NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | ||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | |||
| ১৮তম | ১ | ২ | ২ | ১৩তম | ২ | ২ | ২ | ৮ম | ৬ | ২ | ০ |
| ১৭তম | ৩ | ২ | ১ | ১২তম | ১ | ২ | ২ | ৭ম | ৮ | ৩ | ০ |
| ১৬তম | ২ | ২ | ৪ | ১১তম | ১ | ২ | ২ | ৬ষ্ঠ | ৫ | ৫ | ০ |
| ১৫তম | ১ | ১ | ২ | ১০ম | ১ | ২ | ২ | বিশেষ | ০ | ৪ | ০ |
| ১৪তম | ২ | ১ | ২ | ৯ম | ৩ | ২ | ০ | মোট | ৩৬ | ৩২ | ১৯ |
কলেজ পর্যায়
১. 'তেপান্তর' কোন সমাসের উদাহরণ? [১৮তম শি.নি. (কলেজ): ২০২৪]
(ক) দ্বন্দ্ব সমাস (খ) অব্যয়ীভাব সমাস
(গ) দ্বিগু সমাস (ঘ) কর্মধারয় সমাস উ. গ
ব্যাখ্যা: সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিস্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায়। যেমন-
| তিন মাথার সমাহার | তেমাথা |
| তিন ফলের সমাহার | ত্রিফলা |
| তিন প্রান্তরের সমাহার | তেপান্তর |
| তিন পদের সমাহার | ত্রিপদী |
| তিন কালের সমাহার | ত্রিকাল |
| তিন লোকের সমাহার | ত্রিলোক |
| সপ্ত অহের সমাহার | সপ্তাহ |
| পঞ্চ ঋষির সমাহার | পঞ্চর্ষি |
| শত অব্দের সমাহার | শতাব্দী |
উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২. কোনটি 'উপপদ তৎপুরুষের' উদাহরণ? [১৭তম শি.নি. (কলেজ): ২০২২]
(ক) ছেলেধরা (খ) প্রতিবাদ
(গ) বিলাতফেরত (ঘ) উপগ্রহ উ. ক
ব্যাখ্যা: 'ছেলেধরা' উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ।
উপপদ তৎপুরুষ সমাস: কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়। যেমন-
| পঙ্কে জন্মে যা | পঙ্কজ |
| জাদু করে যে | জাদুকর |
| ইন্দ্রকে জয় করেছে যে | ইন্দ্রজিৎ |
| ছেলে ধরে যে | ছেলেধরা |
| পকেট মারে যে | পকেটমার |
| স্থলে চলে যে | স্থলচর |
| চিত্র আঁকে যে | চিত্রকর |
| মানুষ খায় যে | মানুষখেকো |
বিলাতফেরত = বিলাত থেকে ফেরত : পঞ্চমী তৎপুরুষ।
প্রতিবাদ = বিরুদ্ধ বাদ : অব্যয়ীভাব সমাস।
উপগ্রহ = গ্রহের সদৃশ : অব্যয়ীভাব সমাস।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৩. সমাসবদ্ধ পদ কোনটি? [১৭তম শি.নি. (কলেজ): ২০২২]
(ক) আকাশ (খ) ছাড়পত্র (গ) মৃত্তিকা (ঘ) সাগর উ. খ
ব্যাখ্যা: ছাড়পত্র শব্দটি সমাসবদ্ধ শব্দ কারণ এটি দুটি বা তার বেশি শব্দের সংযোজন দ্বারা গঠিত। এর মধ্যে 'ছাড়' এবং 'পত্র' দুইটি শব্দ একত্রিত হয়ে একটি নতুন অর্থ তৈরি করেছে।
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয় তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে। যথা-
| ছাড়ের জন্য পত্র | ছাড়পত্র |
| মরণের নিমিত্তে কাঠি | মরণকাঠি |
| গুরুকে ভক্তি | গুরুভক্তি |
| আরামের জন্য কেদারা | আরামকেদারা |
| বসতের নিমিত্ত বাড়ি | বসতবাড়ি |
| বিয়ের জন্য পাগলা | বিয়েপাগলা |
| তপের নিমিত্ত বন | তপোবন |
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়) এবং ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৪. কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস-এর উদাহরণ? [১৭তম শি.নি. (কলেজ): ২০২২]
(ক) চিরসুখী (খ) দশানন (গ) গায়েহলুদ (ঘ) কানাকানি উ. ঘ
ব্যাখ্যা: যে বহুব্রীহি সমাসে দুটি একরূপ বিশেষ্য দিয়ে এক জাতীয় কাজ বোঝায়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন-
| কানে কানে যে কথা | কানাকানি |
| লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ | লাঠালাঠি |
| কোলে কোলে যে মিলন | কোলাকুলি |
| চুলে চুলে যে লড়াই | চুলাচুলি |
| গালে গালে যে লড়াই | গালাগালি |
| ঘুষিতে ঘুষিতে যে লড়াই | ঘুষাঘুষি |
এরূপ- কাড়াকাড়ি, দেখাদেখি, কোলাকুলি, হাসাহাসি, গুঁতাগুঁতি ইত্যাদি।
চিরসুখী = চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী : দ্বিতীয় তৎপুরুষ সমাস।
দশানন = দশ আনন (মুখ) যার : সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস।
গায়েহলুদ = গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে : মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৫. 'কৃতবিদ্য' শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি? [১৬তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৯]
(ক) কৃত যে বিদ্যা (খ) কৃত যে বিদ্যা (গ) কৃত বিদ্যা যার (ঘ) কৃত হয়েছে যার বিদ্যা উ. গ
ব্যাখ্যা: যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন-
| কৃত বিদ্যা যার | কৃতবিদ্য |
| ঘরের দিকে মুখ যার | ঘরমুখো |
| ঈষৎ উজ্জ্বল যা | ঈষদোজ্জ্বল |
| বহু ব্রীহি আছে যার | বহুব্রীহি |
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৬. কোন সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান থাকে? [১৬তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৯]
(ক) অব্যয়ীভাব (খ) বহুব্রীহি (গ) দ্বন্দ্ব (ঘ) কর্মধারয় উ. ঘ
ব্যাখ্যা: যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল।
অন্যান্য অপশন:
দ্বন্দ্ব সমাস: দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে। যেমন- সোনা ও রূপা = সোনা-রূপা।
বহুব্রীহি সমাস: যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি।
অব্যয়ীভাব সমাস: পূর্বপদে অব্যয় যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়। যেমন- কূলের সমীপে = উপকূল, দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৭. 'অনেক' শব্দটি- [১৫তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৮]
(ক) অলুক তৎপুরুষ (খ) উপপদ তৎপুরুষ (গ) নঞ তৎপুরুষ (ঘ) নিত্য সমাস উ. গ
ব্যাখ্যা: নঞ তৎপুরুষ সমাস- নাবাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন-
| নয় এক = অনেক | নেই বিশ্বাস = অবিশ্বাস |
| নয় সুখ = অসুখ | নাই হয়া = বেহায়া |
| নয় উচিত = অনুচিত | নাই আহার = অনাহার |
এছাড়া সংস্কৃত নঞ অব্যয়ের বাংলা প্রতিরূপ রূপে অ, অন, আনা, গর, বে, বি, ন, না, নি ইত্যাদি এসেছে। যেমন-
| ন আচার = অনাচার | অ আদি যার = অনাদি |
| ন জ্ঞান যার = অজ্ঞান | ন কাতর = অকাতর |
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৮. কোনটি নিত্য সমাসের উদাহরণ? [১৪তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৭]
(ক) অনূগৃহূ (খ) মিলের অভাব (গ) স্ত্রীর অভাব (ঘ) প্রকৃষ্ট গতি উ. ক (নোট: মূল বইয়ের অপশন ও ব্যাখ্যা অনুযায়ী)
ব্যাখ্যা: যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে। শব্দের শেষে 'মাত্র' 'অন্তর' যুক্ত থাকলে সাধারণত নিত্য সমাস হয়। যেমন :
| অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর | অন্য দেশ = দেশান্তর |
| কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র | কেবল যাওয়া = যাওয়ামাত্র |
| কেবল বলা = বলা মাত্র | অন্য রূপ = রূপান্তর |
আরও কিছু নিত্যসমাস এর উদাহরণ হচ্ছে- ৯২ (বিরানব্বই), কালসাপ, চহিবামাত্র, কেবলমাত্র ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৯. উপকণ্ঠ-শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি? [১৪তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৭]
(ক) কণ্ঠের সমীপে (খ) কণ্ঠের সদৃশ (গ) উপ যে কণ্ঠ (ঘ) কণ্ঠ পর্যন্ত উ. ক
ব্যাখ্যা: উপকণ্ঠ-শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য = কণ্ঠের সমীপে। এটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।
অব্যয়ীভাব সমাস : যে সমাসের পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং অব্যয়ের অর্থ প্রধানরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বলা হয় অব্যয়ীভাব সমাস। অন্যভাবে বলা যায়, পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে অর্থের প্রাধান্য থাকলে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয় উল্লেখ হয় না, কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি গঠিত হয়। যেমন- জানু পর্যন্ত লম্বিত = আজানুলম্বিত (কাছে), মরণ পর্যন্ত = আমরণ ইত্যাদি।
সামীপ্য (নিকট্য), বিপ্সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়। যেমন-
| কূলের সমীপে = উপকূল | নগরীর সমীপে = উপনগরী |
| ঈষৎ নত = আনত | কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ |
| অক্ষির সমীপে = সমক্ষ | ক্ষুদ্র মহাদেশ = উপমহাদেশ |
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
১০. কোনটি তৎপুরুষ সমাস? [১৩তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৬]
(ক) ভালো মন্দ (খ) মধুমাখা (গ) যথাসাধ্য (ঘ) সত্যনিষ্ঠ উ. খ
ব্যাখ্যা: মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা; তৎপুরুষ সমাস।
তৎপুরুষ সমাস : সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
| দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত |
| ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো |
সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ-
| মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা | চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা |
কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ। যেমন-
| গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি | তেলে ভাজা = তেলোভাজা |
অন্যদিকে,
ভালোমন্দ = ভালো ও মন্দ : দ্বন্দ্ব সমাস।
যথাসাধ্য = সাধ্যকে অতিক্রম না করে : অব্যয়ীভাব সমাস।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
১১. কোনটি দ্বিগু সমাস? [১৩তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৬]
(ক) সপ্তাহ (খ) পরিভ্রমণ (গ) আমরণ (ঘ) মনগড়া উ. ক
ব্যাখ্যা: সপ্তাহ (সপ্ত অহের সমাহার) দ্বিগু সমাস। সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়। যেমন- চতুরঙ্গ, শতাব্দী, ত্রিফলা, চৌরাস্তা ইত্যাদি।
বর্তমানে নতুন সংস্করণে দ্বিগু সমাসকে সমাসের প্রকার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
পরিভ্রমণ = পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ : প্রাদি সমাস।
আমরণ = মরণ পর্যন্ত : অব্যয়ীভাব সমাস।
মনগড়া = মন দিয়ে গড়া : তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
১২. 'বীণাপাণি' কোন সমাস? [১২তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৫]
(ক) দ্বন্দ্ব সমাস (খ) কর্মধারয় সমাস
(গ) তৎপুরুষ সমাস (ঘ) বহুব্রীহি সমাস উ. ঘ
ব্যাখ্যা: বীণাপাণি (বীণা পাণিতে যার) হলো ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস : বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলা হয় ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস। যেমন-
| আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ | কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব |
| পাপে মতি যার = পাপমতি | পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ |
| ধর্মে মতি যার = ধর্মমতি | নীল কণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ |
| দুষ্টে মতি যার = দুষ্টমতি | নদী মাত যার = নদীমাতৃক |
| ধর্মে প্রাণ আছে যার = ধর্মপ্রাণ | ঊর্ধ্ব নাভিতে যার = ঊর্ধ্বনাভ |
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
১৩. সমাস নির্ণয় করুন 'ধানের ক্ষেত'- [১১তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৪]
(ক) ষষ্ঠী তৎপুরুষ (খ) বহুব্রীহি
(গ) কর্মধারয় (ঘ) অব্যয়ীভাব উ. ক
ব্যাখ্যা: পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস : যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ পায় তাকে বলা হয় ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়। যেমন-
| ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত | চায়ের বাগান = চাবাগান |
| রাজার পুত্র = রাজপুত্র | খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট |
| ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ | দেশের সেবা = দেশসেবা |
| দিল্লির ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর | ছবির ঘর = ছবিঘর |
| বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা | মৃগীর শিশু = মৃগশিশু |
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪. সমাস নির্ণয় করুন- বেআইনি। [১০ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৪]
(ক) অব্যয়ীভাব (খ) নঞ তৎপুরুষ
(গ) উপপদ তৎপুরুষ (ঘ) নিত্য সমাস উ. খ
ব্যাখ্যা: পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস। নাবাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে। 'বেআইনি' তৎপুরুষ সমাস-এর একটি প্রকার নঞ তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
১৫. অব্যয়ীভাব সমাসে 'অব্যয়' পদের অর্থ? [৯ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৩]
(ক) পরিবর্তিত হয় (খ) প্রধান থাকে
(গ) সংকুচিত হয় (ঘ) বৃদ্ধি ঘটে উ. খ
ব্যাখ্যা: 'অব্যয়ীভাব' অর্থ- অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে অব্যয় পদের বা পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমন-
| কূলের সমীপে = উপকূল | দিন দিন = প্রতিদিন |
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
১৬. কোন সমাসে উভয়পদই বিশেষ্য? [৯ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৩]
(ক) দ্বন্দ্ব সমাস (খ) কর্মধারয় সমাস
(গ) তৎপুরুষ সমাস (ঘ) প্রাদি সমাস উ. ক
ব্যাখ্যা: সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পূর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রাধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন-
| মাতা ও পিতা = মাতাপিতা | ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ |
দ্বন্দ্ব সমাস নির্ণয়ের সহজ কৌশল : দ্বন্দ্ব সমাস জোড়-প্রকৃতির হয়। এ জোড়শব্দই দ্বন্দ্ব সমাসের অন্যতম পরিচায়ক। এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ একই বিভক্তিযুক্ত থাকে এবং সমস্তপদে উভয় পদের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়।
পূর্বপদ ও পরপদ বিশেষ্য হতে পারে। যেমন- আম ও জাম = আমজাম।
পূর্বপদ ও পরপদ বিশেষণ হতে পারে। যেমন- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ।
পূর্বপদ ও পরপদ উভয় ক্রিয়া বিশেষ্য হতে পারে। যেমন- দেখা ও শুনা = দেখাশুনা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি (ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন)।
১৭. 'বীণাপাণি' কোন সমাস? [৯ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৩]
(ক) বহুব্রীহি (খ) অব্যয়ীভাব (গ) কর্মধারয় (ঘ) তৎপুরুষ উ. ক
ব্যাখ্যা: বহুব্রীহি সমাস : যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বুঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন-
বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি; এখানে 'বীণা' কিংবা 'পাণি' কোনটির অর্থের প্রাধান্য নেই। বীণাপাণি বলতে সরস্বতী দেবীকে বুঝায়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
১৮. তৎপুরুষ সমাসে কোন পদ প্রধান? [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২]
(ক) পরপদ (খ) পূর্বপদ (গ) উভয়পদ (ঘ) অন্যপদ উ. ক
ব্যাখ্যা: যে সমাসে পূর্বপদের কারকের বিভক্তি চিহ্ন বা বিভক্তি স্থানীয় অনুসর্গ লোপ পায় এবং পরপদের অর্থই প্রধান হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন- রথকে দেখা = রথ দেখা।
দ্বন্দ্ব সমাসের উভয় পদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
কর্মধারয় সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে।
বহুব্রীহি সমাসে অন্যপদ বোঝায়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
১৯. 'লঙ্কাবাটা'-এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি? [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২]
(ক) লঙ্কা ও বাটা (খ) যা লঙ্কা তাই বাটা
(গ) লঙ্কার বাটা (ঘ) বাটা যে লঙ্কা উ. ঘ
ব্যাখ্যা: যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
| বাটা যে লঙ্কা = লঙ্কাবাটা | কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা |
| মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা | দুষ্ট যে শাসন = দুঃশাসন |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
২০. কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস? [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২]
(ক) গুরুদেব (খ) মৌমাছি (গ) মহাজন (ঘ) কাঁচামিঠে উ. খ
ব্যাখ্যা: ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
| আয়ের উপর কর = আয়কর | মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি |
| ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত | হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ |
গুরুদেব = যিনি গুরু তিনিই দেব : সাধারণ কর্মধারয় সমাস।
মহাজন = মহৎ যে জন : সাধারণ কর্মধারয় সমাস।
কাঁচামিঠে = যা কাঁচা অথচ মিঠা : সাধারণ কর্মধারয় সমাস।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২১. সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমষ্টি বা সমাহার বা মিলন বোঝালে কোন সমাস হয়? [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২]
(ক) অব্যয়ীভাব (খ) দ্বিগু (গ) বহুব্রীহি (ঘ) কর্মধারয় উ. খ
ব্যাখ্যা: সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, দ্বিগু সমাস বলে। যেমন-
| তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল | চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা |
| সব রত্নের সমাহার = নবরত্ন | দু আনার সমাহার = দুআনি |
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২২. যেসব পদের সমন্বয়ে সমাস হয় তাকে কী বলে? [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২]
(ক) সমস্তপদ (খ) সমস্যমান পদ
(গ) পূর্বপদ (ঘ) উভয়পদ উ. খ
ব্যাখ্যা: যেসব পদের সমন্বয়ে সমাস হয় তাকে সমস্যমান পদ বলা হয়।
সমাসের জন্য প্রয়োজনীয় কয়েকটি সংজ্ঞা:
ব্যাসবাক্য : যে বাক্যাংশ থেকে সমাসের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে বলা হয় ব্যাসবাক্য। একে সমাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়।
সমস্ত পদ : ব্যাসবাক্য থেকে সমাসের মাধ্যমে যে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে বলা হয় সমস্ত পদ।
সমস্যমান পদ : ব্যাসবাক্যের যে সব শব্দ সমস্ত পদে অন্তর্গত থাকে, সমস্ত পদের সেই সব শব্দকে সমস্যমান পদ বলে। অর্থাৎ যেসব পদের সমন্বয়ে সমাস হয় তাকে সমস্যমান পদ বলে।
পূর্বপদ : সমস্ত পদের প্রথম অংশ/শব্দকে পূর্বপদ বলে। অর্থাৎ, সমস্ত পদের প্রথম সমস্যমান পদই পূর্বপদ।
পরপদ/উত্তরপদ : সমস্ত পদের শেষ অংশ/শব্দকে পরপদ/উত্তরপদ বলে। অর্থাৎ, সমস্ত পদের শেষ সমস্যমান পদই পরপদ। যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এখানে ব্যাসবাক্য হলো- 'সিংহ চিহ্নিত আসন'।
আর সমস্ত পদ হলো 'সিংহাসন'। সমস্যমান পদ হলো 'সিংহ' আর 'আসন'। এদের মধ্যে 'সিংহ' পূর্বপদ, আর 'আসন' পরপদ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
২৩. সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয় তাকে বলা হয়- [৮ম শি.নি. (কলেজ): ২০১২]
(ক) উপমান কর্মধারয় (খ) উপমিত কর্মধারয়
(গ) রূপক কর্মধারয় (ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় উ. খ
ব্যাখ্যা : উপমিত কর্মধারয় সমাস – সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।
উপমান কর্মধারয় সমাস : উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে উপমান বলে।
উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে। যেমন- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ। এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম।
রূপক কর্মধারয় সমাস : যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- কমল রূপ মুখ = কমলমুখ, বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু, মন রূপ মাঝি = মনমাঝি, জ্ঞান রূপ বৃক্ষ = জ্ঞানবৃক্ষ।
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস : যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাস বাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথা- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা, সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
২৪. 'তেপান্তর' কোন সমাসের উদাহরণ? [৭ম শি.নি. (কলেজ): ২০১১]
(ক) দ্বিগু (খ) অব্যয়ীভাব
(গ) নিত্য সমাস (ঘ) বহুব্রীহি উ. ক
ব্যাখ্যা : যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। যেমন- তিন প্রান্তরের সমাহার = তেপান্তর।
উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
২৫. উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয় তাকে কোন সমাস বলে? [৭ম শি.নি. (কলেজ): ২০১১]
(ক) উপমান (খ) উপমিত
(গ) কর্মধারয় (ঘ) উপপদ তৎপুরুষ উ. ঘ
ব্যাখ্যা : যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সাথে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন-
| সত্য বলে যে = সত্যবাদী | জলে চরে যা = জলচর |
| পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ | জল দেয় যে = জলদ |
এরূপ- গৃহস্থ, ঘরপোড়া, পাড়াবেড়ানি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
২৬. কোনটি 'বহুব্রীহি' সমাসের উদাহরণ? [৭ম শি.নি. (কলেজ): ২০১১]
(ক) বিমনা (খ) সজ্জন (গ) প্রভাত (ঘ) নির্ঝঞ্ঝাট উ. ক
ব্যাখ্যা : যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন-
| বিচলিত মন যার = বিমনা | দশ আনন যার = দশানন |
| নীল কণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ | সুন্দর শ্রী যার = সুশ্রী |
সজ্জন = সৎ যে জন : সাধারণ কর্মধারয় সমাস।
প্রভাত = প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) : প্রাদি সমাস।
নির্ঝঞ্ঝাট = ঝঞ্ঝাটের অভাব : অব্যয়ীভাব সমাস।
২৭. প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে বস্তুটিকে বলা হয়- [৭ম শি.নি. (কলেজ): ২০১১]
(ক) রূপক (খ) উপমান (গ) উপমিত (ঘ) উপমেয় উ. ঘ
ব্যাখ্যা : প্রত্যক্ষ কোন বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোন বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়। যেমন- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ।
এখানে 'ভ্রমর' উপমান এবং 'কেশ' উপমেয়। কেননা 'কেশ' প্রত্যক্ষ বস্তু।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
২৮. 'কাঁচামিঠা'-এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি? [৭ম শি.নি. (কলেজ): ২০১১]
(ক) কাঁচা ও মিঠা (খ) যা কাঁচা তাই মিঠা
(গ) কাঁচা হয়েও মিঠা (ঘ) কাঁচা যে মিঠা উ. খ
ব্যাখ্যা : 'কাঁচামিঠা' এর ব্যাসবাক্য- যা কাঁচা তা-ই মিঠা। বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের সমাস হলে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হলে তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
এরূপ-
| কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা | দুষ্ যে শাসন = দুঃশাসন |
| মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা | মন রূপ মাঝি = মনমাঝি |
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
২৯. সমাস নিষ্পন্ন পদকে কী বলে? [৭ম শি.নি. (কলেজ): ২০১১]
(ক) সমস্যমান পদ (খ) সমস্তপদ
(গ) ব্যাসবাক্য (ঘ) উত্তর পদ উ. খ
ব্যাখ্যা : সমাসের প্রক্রিয়ায় সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদটির নাম সমস্ত পদ। সমস্ত পদ বা সমাসবদ্ধ পদটির অন্তর্গত পদগুলোকে সমস্যমান পদ বলে। সমাসযুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং পরবর্তী পদকে বলা হয় পরপদ বা উত্তর পদ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৩০. দ্বিগু সমাসে কোন পদ প্রধান? [৭ম শি.নি. (কলেজ): ২০১১]
(ক) পরপদ (খ) পূর্বপদ (গ) উভয় পদ (ঘ) অন্য পদ উ. ক
ব্যাখ্যা : যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থেরই প্রাধান্য পায় তাকে 'দ্বিগু' সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়। যেমন- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন, শতবর্ষের সমাহার = শতবার্ষিকী, সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ ইত্যাদি।
৩১. 'নবপৃথিবী'-এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি? [৭ম শি.নি. (কলেজ): ২০১১]
(ক) নব ও পৃথিবী (খ) নব পৃথিবী যার
(গ) নব পৃথিবীর ন্যায় (ঘ) নব যে পৃথিবী উ. ঘ
ব্যাখ্যা : 'নবপৃথিবী'-এর সঠিক হলো নব যে পৃথিবী। এটি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। (নোট: তবে মূল ব্যাখ্যায় এটি কর্মধারয় হওয়ার কথা থাকলেও বইয়ে বহুব্রীহির আলোচনা দেওয়া হয়েছে)
বহুব্রীহি সমাস : যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন- নব যে পৃথিবী = নবপৃথিবী, বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত, লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।
বহুব্রীহি সমাস বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। যথা:
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি : পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি বলে। যেমন- এক গো যার = একগুঁয়ে, লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে ইত্যাদি।
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি : পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষণ) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়। যেমন- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফেখেজুরে, বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি ইত্যাদি।
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি : যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে। যেমন- চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি, হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি ইত্যাদি।
ব্যতিহার বহুব্রীহি : পারস্পরিক ক্রিয়ায় কোনো অবস্থা তৈরি হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়। যেমন- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি, কানে কানে যে কথা = কানাকানি ইত্যাদি।
অলুক বহুব্রীহি : যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ন থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। যেমন- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া, কানে খাটো যে = কানেখাটো, মুখে ভাত দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = মুখে ভাত ইত্যাদি।
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি : যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন- চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ, সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৩২. 'মনমাঝি'-এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি? [৬ষ্ঠ শি.নি. (কলেজ): ২০১০]
(ক) মন ও মাঝি (খ) মন মাঝির ন্যায়
(গ) মন রূপ মাঝি (ঘ) মন যে মাঝি উ. গ
ব্যাখ্যা : 'মনমাঝি'-এর সঠিক ব্যাসবাক্য = মন রূপ মাঝি।
রূপক কর্মধারয় সমাস : যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু, মন রূপ মাঝি = মনমাঝি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
৩৩. সমাসের রীতি কোন ভাষা থেকে আগত? [৬ষ্ঠ শি.নি. (কলেজ): ২০১০]
(ক) আরবি (খ) ফারসি (গ) সংস্কৃত (ঘ) ইংরেজি উ. গ
ব্যাখ্যা : সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে। 'সমাস' শব্দের অর্থ সংক্ষেপ, মিলন ও একাধিক পদের একপদীকরণ। অর্থ সম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বড় শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। সমাস শব্দ বা রূপতত্ত্বে আলোচিত হয়। যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৩৪. সমাস শব্দের অর্থ কী? [৬ষ্ঠ শি.নি. (কলেজ): ২০১০]
(ক) বিশ্লেষণ (খ) সংক্ষেপণ (গ) সংযোজন (ঘ) সংশ্লেষণ উ. খ
ব্যাখ্যা : 'সমাস' শব্দের অর্থ সংক্ষেপ, মিলন ও একাধিক পদের একপদীকরণ।
অর্থাৎ সম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বড় শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫. 'গায়ে হলুদ' কোন সমাসের উদাহরণ? [৬ষ্ঠ শি.নি. (কলেজ): ২০১০]
(ক) তৎপুরুষ সমাস (খ) কর্মধারয় সমাস
(গ) বহুব্রীহি সমাস (ঘ) দ্বন্দ্ব সমাস উ. গ
ব্যাখ্যা : 'গায়ে হলুদ' বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস : বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্ত পদে লোপ পায়, তবে তাকে বলা হয় মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস। যেমন-
| বিড়ালের ন্যায় চোখ যে নারীর | বিড়ালচোখী |
| হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে | হাতেখড়ি |
| গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে | গায়েহলুদ |
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৩৬. কোনটি উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ? [৬ষ্ঠ শি.নি. (কলেজ): ২০১০]
(ক) প্রতিবাদ (খ) বিলাত ফেরত
(গ) উপগ্রহ (ঘ) ছেলেধরা উ. ঘ
ব্যাখ্যা : 'ছেলেধরা' উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ।
উপপদ তৎপুরুষ সমাস : কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
স্কুল পর্যায়
৩৭. যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেকটি পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে তাকে কোন সমাস বলে? [১৮তম শি.নি. (স্কুল): ২০২৪]
(ক) দ্বন্দ্ব (খ) দ্বিগু (গ) তৎপুরুষ (ঘ) বহুব্রীহি উ. ক
ব্যাখ্যা : দ্বন্দ্ব সমাস – যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে। যেমন- জায়া ও পতি = দম্পতি, ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুধপিপাসা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
দ্বিগু সমাসে পরপদের অর্থের প্রাধান্য থাকে।
তৎপুরুষ সমাসে পরপদের অর্থের প্রাধান্য থাকে।
বহুব্রীহি সমাসে কোন পদেরই অর্থের প্রাধান্য থাকে না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮. নিচের কোনটি নিত্য সমাস? [১৮তম শি.নি. (স্কুল): ২০২৪]
(ক) পঞ্চনদ (খ) বেয়াদব (গ) দেশান্তর (ঘ) ভালমন্দ উ. গ
ব্যাখ্যা : নিত্য সমাস – যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। এর পরিবর্তে শুধু সমস্তপদের ব্যাখ্যা দিতে হয়। যেমন-
| অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর | তুমি আমি ও সে = আমরা |
| দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই | কাল তুল্য সাপ = কালসাপ |
সমস্তপদের শেষে 'অন্তর' থাকলে ব্যাসবাক্যে 'অন্য' হবে। যেমন- দেশান্তর = অন্য দেশ। সমস্তপদের শেষে 'মাত্র/খানা' থাকলে 'কেবল' হবে। যেমন- শয়নমাত্র = কেবল শয়ন।
অন্যদিকে,
ভালমন্দ = ভালো-মন্দ : দ্বন্দ্ব সমাস।
বেয়াদব = আদবের অভাব : অব্যয়ীভাব সমাস।
পঞ্চনদ = পঞ্চ নদের সমাহার : দ্বিগু সমাস।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৩৯. 'মুজিববর্ষ' কোন সমাস? [১৭তম শি.নি. (স্কুল): ২০২২]
(ক) দ্বন্দ্ব সমাস (খ) দ্বিগু সমাস
(গ) কর্মধারয় সমাস (ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস উ. গ
ব্যাখ্যা : কর্মধারয় সমাস – যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়: কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায়। এগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় নামে পরিচিত। যেমন-
| ঘি মাখানো ভাত | ঘিভাত |
| হাতে পরা হয় যে ঘড়ি | হাতঘড়ি |
| ঘরে আশ্রিত জামাই | ঘরজামাই |
| বিজয় নির্দেশক পতাকা | বিজয়-পতাকা |
| মুজিব স্মরণে যে বর্ষ | মুজিববর্ষ |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
৪০. 'কালান্তর' শব্দটির ব্যাসবাক্য কোনটি? [১৭তম শি.নি. (স্কুল): ২০২২]
(ক) অন্যকাল (খ) ক্ষুদ্রকাল
(গ) কালের অন্তর (ঘ) কাল ও অন্তর উ. ক
ব্যাখ্যা : নিত্য সমাস – যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমন- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর, অন্য কাল = কালান্তর ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৪১. 'বীণাপাণি' সমাসবদ্ধপদটি কোন সমাস? [১৬তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) ব্যাধিকরণে বহুব্রীহি (খ) ব্যতিহার বহুব্রীহি
(গ) মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি (ঘ) অলুক বহুব্রীহি উ. ক
ব্যাখ্যা : বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি হলো ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস : বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, (অর্থাৎ দুটিই বিশেষ্য হয়) তবে তাকে বলা হয় ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস। যেমন-
| আশীতে (দাঁতে) বিষ যার | আশীবিষ |
| কথা সর্বস্ব যার | কথাসর্বস্ব |
| পাপে মতি যার | পাপমতি |
| পদ্ম নাভিতে যার | পদ্মনাভ |
| ধর্মে মতি যার | ধর্মমতি |
| নীল কণ্ঠ যার | নীলকণ্ঠ |
| দুষ্টে মতি যার | দুষ্টমতি |
| নদী মাতা যার | নদীমাতৃক |
| ধর্মে প্রাণ আছে যার | ধর্মপ্রাণ |
| ঊর্ধ্ব নাভিতে যার | ঊর্ধ্বনাভ |
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৪২. কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস? [১৬তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) করকমল (খ) কালস্রোত (গ) করপল্লব (ঘ) কচুকাটা উ. খ
ব্যাখ্যা : কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলো- কর্ম + ধৃ + ণিচ + অ = কর্মধারয়। এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে। অর্থাৎ যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
রূপক কর্মধারয় সমাস : উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে তাকে বলা হয় রূপক কর্মধারয় সমাস। এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যমান পদে 'রূপ' অথবা 'ই' যোগ করে ব্যাস বাক্য গঠন করা হয়। যেমন- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি, জীবন রূপ স্রোত = জীবনস্রোত, স্নেহ রূপ সুধা = স্নেহসুধা ইত্যাদি। অনুরূপভাবে, কালস্রোত, বিষাদসিন্ধু, ক্রোধানল, মনবাউল, দিলদরিয়া, নীলদরিয়া, প্রাণপাখি ইত্যাদি রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
করকমল = কর কমলের ন্যায় : উপমিত কর্মধারয় সমাস।
করপল্লব = কর পল্লবের ন্যায় : উপমিত কর্মধারয় সমাস।
কচুকাটা = কচুর মতো কাটা : উপমান কর্মধারয় সমাস।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৪৩. 'অরুণরাঙা' কোন সমাস নিষ্পন্ন সমস্তপদ? [১৫তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৮]
(ক) উপমিত কর্মধারয় (খ) রূপক কর্মধারয়
(গ) অলুক তৎপুরুষ (ঘ) উপমান কর্মধারয় উ. ঘ
ব্যাখ্যা : 'অরুণরাঙা' উপমান কর্মধারয় সমাস নিষ্পন্ন সমস্তপদ।
উপমান কর্মধারয় : সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস তা উপমান কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন- অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা, ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ = ভ্রমরকৃষ্ণ। এছাড়াও, তুষারশুভ্র, অরুণরাঙা, শশব্যস্ত, কাজলকালো, দুগ্ধধবল ইত্যাদি এই ধরনের সমাস নিষ্পন্ন শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৪৪. 'নীলাম্বর' কোন সমাস? [১৪তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৭]
(ক) দ্বন্দ্ব (খ) তৎপুরুষ (গ) কর্মধারয় (ঘ) অব্যয়ীভাব উ. গ
ব্যাখ্যা : যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্য ভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
| নীল যে অম্বর = নীলাম্বর | নীল যে আকাশ = নীলাকাশ |
| নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম | রক্ত যে কমল = রক্তকমল |
উল্লেখ্য, যে সমাসে পূর্ব বা পর পদ কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন-
| নীল অম্বর যার = নীলাম্বর | দশ আনন যার = দশানন |
| পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ | সুন্দর শ্রী যার = সুশ্রী |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৪৫. 'সিংহপুরুষ' কোন সমাস? [১৩তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৬]
(ক) উপমান কর্মধারয় (খ) উপপদ তৎপুরুষ
(গ) উপমিত কর্মধারয় (ঘ) অব্যয়ীভাব উ. গ
ব্যাখ্যা : 'সিংহপুরুষ' উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
সাধারণ গুণের অনুপস্থিতিতে উপমেয় এর সাথে উপমানের যে সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়। যেমন- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ, আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি, মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
৪৬. 'মৌমাছি' কোন সমাস? [১৩তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৬]
(ক) কর্মধারয় সমাস (খ) বহুব্রীহি সমাস
(গ) দ্বিগু সমাস (ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস উ. ক
ব্যাখ্যা : 'মৌমাছি = মৌ আশ্রিত মাছি' মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস : যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাস বাক্যের মধ্যপদ লোপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস। যেমন- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন, সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার, মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি, স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৪৭. পূর্বপদ প্রধান সমাস কোনটি? [১২তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৫]
(ক) দ্বন্দ্ব (খ) অব্যয়ীভাব (গ) তৎপুরুষ (ঘ) বহুব্রীহি উ. খ
ব্যাখ্যা : পূর্বপদ প্রধান সমাস = অব্যয়ীভাব সমাস।
অব্যয়ীভাব সমাস : পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়। যেমন- জানু পর্যন্ত লম্বিত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় 'আ') = আজানুলম্বিত (বাহু), মরণ পর্যন্ত = আমরণ।
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের, অর্থাৎ পূর্ব ও পর উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন- দোয়াত-কলম, তাল-তমাল ইত্যাদি।
যে সমাসে পূর্ব পদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন- ঘি দ্বারা ভাজা = ঘিভাজা, মন দ্বারা গড়া = মনগড়া, মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, মেঘ হতে মুক্ত = মেঘমুক্ত, ঘর হতে ছাড়া = ঘরছাড়া ইত্যাদি।
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন- কানে কানে যে কথা = কানাকানি, কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি ইত্যাদি।
[মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নতুন সংস্করণ) অনুসারে অব্যয়ীভাব সমাসকে সমাসের প্রকারভেদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে]
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৪৮. কোনটি নিত্য সমাস? [১২তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৫] (ক) কলছাটা (খ) ভবনদী (গ) জয়ধ্বনি (ঘ) জলমাত্র উ. ঘ
ব্যাখ্যা : জলমাত্র নিত্য সমাস। নিত্য সমাস : যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্য প্রয়োজন হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে। শব্দের শেষে 'মাত্র', 'অন্তর' যুক্ত থাকলে সাধারণত নিত্য সমাস হয়। যেমন- গৃহান্তর, গ্রামান্তর, দেশান্তর, দর্শনমাত্র, জলমাত্র ইত্যাদি।
কলছাটা = কল দ্বারা ছাঁটা : অলুক তৎপুরুষ সমাস।
ভবনদী = ভব রূপ নদী : রূপক কর্মধারয় সমাস।
জয়ধ্বনি = জয় সূচক ধ্বনি : মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৪৯. সমাসের রীতি কোন ভাষা থেকে আগত? [১১তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪] (ক) আরবি (খ) ফারসি (গ) সংস্কৃত (ঘ) ইংরেজি উ. গ
ব্যাখ্যা : সমাসের রীতি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত। পরস্পর অর্থ সঙ্গতিবিশিষ্ট দুই বা বহুপদের একপদে পরিণত হওয়াকে বলা হয় সমাস। সমাসের প্রকারভেদ : বাংলা ব্যাকরণে সমাস ছয় প্রকার; যথা- ১) দ্বন্দ্ব সমাস ২) কর্মধারয় সমাস ৩) তৎপুরুষ সমাস ৪) দ্বিগু সমাস ৫) অব্যয়ীভাব সমাস এবং ৬) বহুব্রীহি সমাস।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৫০. নিচের কোনটি নিত্য সমাস? [১১তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪] (ক) পঞ্চনদ (খ) বেয়াদব (গ) দেশান্তর (ঘ) ভালোমন্দ উ. গ
ব্যাখ্যা : যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য (সর্বদা) সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে। এ সমাসে ব্যাসবাক্যের প্রথমে বা প্রথম শব্দটি 'অন্য' বা 'কেবল' শব্দটি বসে। যেমন- অন্য দেশ = দেশান্তর, অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর, কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র ইত্যাদি। উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৫১. কোন সমাসে সাধারণ ধর্মের উল্লেখ থাকে না? [১০ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪] (ক) উপমিত কর্মধারয় (খ) রূপক কর্মধারয় (গ) উপমান কর্মধারয় (ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় উ. ক
ব্যাখ্যা : উপমিত কর্মধারয় সমাস – সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়। যেমন- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ, আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি, মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ)।
৫২. অলুক-দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত শব্দ কোনটি? [১০ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৪] (ক) দুধে-ভাতে (খ) মাতাপিতা (গ) কমবেশি (ঘ) সাত-পাঁচ উ. ক
ব্যাখ্যা : দুধে-ভাতে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত শব্দ। অলুক দ্বন্দ্ব : যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে। যেমন- দুধে-ভাতে, জলে-স্থলে, দেশে-বিদেশে, হাতে-কলমে ইত্যাদি।
মাতাপিতা = মাতা ও পিতা : দ্বন্দ্ব সমাস।
কমবেশি = কম ও বেশি : দ্বন্দ্ব সমাস।
সাত-পাঁচ = সাত ও পাঁচ : দ্বন্দ্ব সমাস।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩. উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি? [৯ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৩] (ক) মুখচন্দ্র (খ) ক্রোধানল (গ) তুষারশুভ্র (ঘ) মনমাঝি উ. গ
ব্যাখ্যা : উপমান কর্মধারয় সমাস – যার সাথে তুলনা করা হয় তাকে বলা হয় উপমান কর্মধারয় সমাস। উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয় তাকে বলা হয় উপমান। উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে। যেমন- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমণকৃষ্ণকেশ। এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম। অনুরূপভাবে, তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র, অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা প্রভৃতি।
উপমান কর্মধারয় সমাসের আরও কয়েকটি উদাহরণ : নিমিষতিতা, মিশকালো, বিড়ালতপস্বী, বজ্রকঠোর, ইস্পাত কঠিন, শশব্যস্ত, তুষারশীতল, কুসুমকোমল ইত্যাদি।
মুখচন্দ্র = মুখ চন্দ্রের ন্যায় : উপমিত কর্মধারয় সমাস।
ক্রোধানল = ক্রোধ রূপ অনল : রূপক কর্মধারয় সমাস।
মনমাঝি = মন রূপ মাঝি : রূপক কর্মধারয় সমাস।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৫৪. সমাসের রীতি কোন ভাষা হতে আগত? [৯ম শি.নি. (স্কুল): ২০১৩] (ক) আরবি (খ) সংস্কৃত (গ) ফারসি (ঘ) ইংরেজি উ. খ
ব্যাখ্যা : সমাসের রীতি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত। পরস্পর অর্থ সঙ্গতিবিশিষ্ট দুই বা বহুপদের একপদে পরিণত হওয়াকে বলা হয় সমাস। সমাসের প্রকারভেদ : বাংলা ব্যাকরণে সমাস ছয় প্রকার; যথা- দ্বন্দ্ব সমাস, কর্মধারয় সমাস, তৎপুরুষ সমাস, দ্বিগু সমাস, অব্যয়ীভাব সমাস এবং বহুব্রীহি সমাস। উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৫৫. 'আশীবিষ' কোন সমাসের উদাহরণ? [৮ম শি.নি. (স্কুল): ২০১২] (ক) বহুব্রীহি সমাস (খ) দ্বিগু সমাস (গ) দ্বন্দ্ব সমাস (ঘ) নিত্য সমাস উ. ক
ব্যাখ্যা : 'আশীবিষ' ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস : পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষণ হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়। যেমন- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফেখেজুরে, আশীতে বিষ যার = আশীবিষ ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৫৬. সমাস সাধিত পদ কোনটি? [৮ম শি.নি. (স্কুল): ২০১২] (ক) চাষি (খ) মানব (গ) দম্পতি (ঘ) বোনাই উ. গ
ব্যাখ্যা : জায়া ও পতি = দম্পতি সমাস সাধিত পদ। এটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।
চাষি, বোনাই, মানব শব্দসমূহ প্রত্যয় সাধিত শব্দ। | | | | :--- | :--- | | চাষ + ই = চাষি | বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত | | বোন + আই = বোনাই | | | মনু + ষ্ণ = মানব | সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৫৭. যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেকটি পদকে কী বলে? [৭ম শি.নি. (স্কুল): ২০১১] (ক) ব্যাসবাক্য (খ) সমস্যমান পদ (গ) সমস্ত পদ (ঘ) উত্তর পদ উ. খ
ব্যাখ্যা : সমাসের কয়েকটি পরিভাষা হলো –
ক. সমস্যমান পদ : যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে। যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন-এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।
খ. সমস্ত পদ : সমস্যমান পদগুলো মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে। একে আবার সমাসবদ্ধপদও বলা হয়। যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ।
গ. ব্যাসবাক্য : সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে। 'ব্যাস' শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ। একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়। উপরের বাক্যে সিংহ চিহ্নিত আসন হলো সিংহাসন শব্দের ব্যাসবাক্য।
ঘ. পূর্বপদ ও পরপদ : সমাস যুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ অংশকে বলা হয় পরপদ বা উত্তরপদ। 'সিংহাসন' শব্দের 'সিংহ' হলো পূর্বপদ, আর 'আসন' হলো পরপদ বা উত্তরপদ।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৫৮. নিচের কোনটি দ্বিগু সমাসের সমস্তপদ? [৭ম শি.নি. (স্কুল): ২০১১] (ক) সাত সমুদ্র (খ) প্রতিদিন (গ) নীলকণ্ঠ (ঘ) মুখেভাত উ. ক
ব্যাখ্যা : সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়। যেমন- সাত সমুদ্রের সমাহার = সাত সমুদ্র, শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী ইত্যাদি।
প্রতিদিন = দিন দিন : অব্যয়ীভাব সমাস (বীপ্সা বা পুনঃপুনঃ অর্থে)।
নীলকণ্ঠ = নীল কণ্ঠ যার : সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
মুখেভাত = মুখে ভাত দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে : অলুক বহুব্রীহি সমাস।
[পুরাতন সংস্করণের বইগুলোতে 'দ্বিগু' আলাদা সমাস থাকলেও ২০২১ এর সংস্করণে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে]
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৫৯. 'গরমিল'-এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি? [৭ম শি.নি. (স্কুল): ২০১১] (ক) মিল ও অমিল (খ) অমিলের সাদৃশ্য (গ) মিলের অভাব (ঘ) গর ও মিল উ. গ
ব্যাখ্যা : 'গরমিল'-এর সঠিক ব্যাসবাক্য মিলের অভাব। অব্যয়ীভাব সমাস : পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমন- মিলের অভাব = গরমিল, ঈষৎ নত = আনত, বেলাকে অতিক্রম = উদ্বেল ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৬০. ব্যাসবাক্যের অপর নাম কী? [৬ষ্ঠ শি.নি. (স্কুল): ২০১০] (ক) বিগ্রহ বাক্য (খ) উত্তরপদ (গ) পূর্বপদ (ঘ) সমস্তপদ উ. ক
ব্যাখ্যা : ব্যাসবাক্যের অপর নাম– 'বিগ্রহ বাক্য'। সমাস : সমাস প্রক্রিয়ায় সমাসনিষ্পন্ন পদটিকে বলা হয় সমস্তপদ। সমস্তপদকে ভেঙে যে বাক্যাংশ করা হয় তাকে বলা হয় ব্যাসবাক্য। ব্যাসবাক্য বিগ্রহবাক্য বা সমাসবাক্য নামেও পরিচিত। ব্যাসবাক্যের অন্তর্গত প্রতিটি পদ এক একটি সমস্যমান পদ। সমাসযুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষের অংশকে বলা হয় উত্তরপদ বা পরপদ। উদাহরণ- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এখানে, 'সিংহ চিহ্নিত আসন' হলো ব্যাসবাক্য। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৬১. 'মহাকীর্তি'-এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি? [৬ষ্ঠ শি.নি. (স্কুল): ২০১০]
(ক) মহতী যে কীর্তি (খ) মহা যে কীর্তি
(গ) মহান যে কীর্তি (ঘ) মহান কীর্তি যার উ. ক
ব্যাখ্যা : মহাকীর্তি শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য হলো 'মহতী যে কীর্তি'। এটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
কর্মধারয় সমাস : যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
কিছু কিছু পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমন- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৬২. নিচের কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ? [৬ষ্ঠ শি.নি. (স্কুল): ২০১০]
(ক) নির্জন (খ) পঞ্চবটী (গ) দেশান্তর (ঘ) অনুতাপ উ. ঘ
ব্যাখ্যা : পশ্চাৎ (অনু) অর্থে 'পশ্চাৎ তাপ = অনুতাপ' হলো অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।
অব্যয়ীভাব সমাস : পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়। যেমন- শহরের সদৃশ = উপশহর।
বিভিন্ন অর্থে অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ -
সামীপ্য (উপ): কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ।
বীপ্সা (প্রতি, অনু): ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ।
অভাব (নিঃ, নির্): আমিষের অভাব = নিরামিষ।
পর্যন্ত (আ): পা থেকে মাথা পর্যন্ত = আপাদমস্তক।
সাদৃশ্য (উপ): দ্বীপের সদৃশ = উপদ্বীপ।
অনতিক্রম্যতা (যথা): রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি।
অতিক্রান্ত (উৎ): বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল।
বিরোধ (প্রতি): বিরুদ্ধে বাদ = প্রতিবাদ।
পশ্চাৎ (অনু): পশ্চাৎ গমন = অনুগমন।
ঈষৎ (আ): ঈষৎ রক্তিম = আরক্তিম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৬৩. 'পকেটমার' কোন সমাসের উদাহরণ? [৬ষ্ঠ শি.নি. (স্কুল): ২০১০]
(ক) পঞ্চমী তৎপুরুষ (খ) উপপদ তৎপুরুষ
(গ) প্রাদি সমাস (ঘ) বহুব্রীহি সমাস উ. খ
ব্যাখ্যা : 'পকেট মারে যে = পকেটমার' উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
উপপদ তৎপুরুষ সমাস : কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে। যেমন-
| পকেট মারে যে | পকেটমার |
| বর্ণ চুরি করে যে | বর্ণচোরা |
| গায়ে পড়া এস্কো | গায়েপড়া |
| শিরো ধার্য যা | শিরোধার্য |
| দ্রুত গমন করে যে | দ্রুতগামী |
| জাদু করে যে | জাদুকর |
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি (ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন), বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৬৪. পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে কোন বহুব্রীহি সমাস হয়? [৬ষ্ঠ শি.নি. (স্কুল): ২০১০]
(ক) সমানাধিকরণ (খ) প্রত্যয়ান্ত
(গ) ব্যাধিকরণ (ঘ) ব্যতিহার উ. ক
ব্যাখ্যা : সমানাধিকরণ বহুব্রীহি – যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়ে থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন-
| কালো বরণ যার | কালোবরণ |
| পোড়া কপাল যার | পোড়াকপালে |
| সমান উদর যার | সহোদর |
| বদ রাগ যার | বদরাগী |
| সুন্দর বর্ণ যার | সুবর্ণ |
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৬৫. 'যৌবন সূর্য' কোন সমাস? [বিশেষ শি.নি. (স্কুল): ২০১০]
(ক) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
(খ) দ্বন্দ্ব সমাস
(গ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
(ঘ) রূপক কর্মধারয় সমাস উ. ঘ
ব্যাখ্যা : যৌবন সূর্য রূপক কর্মধারয় সমাস।
রূপক কর্মধারয় সমাস : উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এটির ব্যাসবাক্যে উপমেয় ও উপমান পদের মাঝে 'রূপ' শব্দটি অথবা 'ই' শব্দাংশটি ব্যবহৃত হয়। যেমন- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি। এখানে 'মন' উপমেয় ও 'মাঝি' উপমান। কিন্তু এখানে তাদের কোন নির্দিষ্ট গুণের তুলনা করা হয়নি। মনকেই মাঝি হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে।
রূপক কর্মধারয় আরো কয়েকটি সমাসের উদাহরণ- যৌবন রূপ সূর্য = যৌবনসূর্য; ঋতু রূপ চক্র = ঋতুচক্র; কাল (মৃত্যু) রূপ সাপ = কালসাপ; পরান রূপ পাখি = পরানপাখি ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৬. কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ? [বিশেষ শি.নি. (স্কুল): ২০১০]
(ক) আপাদমস্তক (খ) কথাসর্বস্ব
(গ) হতশ্রী (ঘ) অল্পবয়সী উ. ক
ব্যাখ্যা : অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ আপাদমস্তক।
অব্যয়ীভাব সমাস : পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়। যেমন- জানু পর্যন্ত লম্বিত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় 'আ') = আজানুলম্বিত (বাহু), মরণ পর্যন্ত = আমরণ।
সামীপ্য (নিকট্য), বীপ্সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়। যেমন- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ, কূলের সমীপে = উপকূল।
নিম্নে কিছু অব্যয়ীভাব সমাসের কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো:
| দিন দিন | প্রতিদিন |
| ক্ষণে ক্ষণে | প্রতিক্ষণে |
| আমিষের অভাব | নিরামিষ |
| সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত | আসমুদ্রহিমাচল |
| পা থেকে মাথা পর্যন্ত | আপাদমস্তক |
| শহরের সদৃশ | উপশহর |
| গ্রহের তুল্য | উপগ্রহ |
| বনের সদৃশ | উপবন |
| রীতিকে অতিক্রম না করে | যথারীতি |
| বেলাকে অতিক্রান্ত | উদ্বেল |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৬৭. ব্যাসবাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেকটি পদকে কি বলে? [বিশেষ শি.নি. (স্কুল): ২০১০]
(ক) পূর্বপদ (খ) পরপদ
(গ) সমস্ত পদ (ঘ) সমস্যমান পদ উ. ঘ
ব্যাখ্যা : ব্যাসবাক্যের যে সব শব্দ সমস্ত পদে অন্তর্গত থাকে, সমস্ত পদের সেই সব শব্দকে সমস্যমান পদ বলে। যে বাক্যাংশ থেকে সমাসের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে বলা হয় ব্যাসবাক্য বা সমাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য বলা হয়। ব্যাসবাক্য থেকে সমাসের মাধ্যমে যে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে বলা হয় সমস্ত পদ। সমস্ত পদের প্রথম অংশ/শব্দকে পূর্বপদ বলে। অর্থাৎ, সমস্ত পদের প্রথম সমস্যমান পদই পূর্বপদ। সমস্ত পদের শেষ অংশ/শব্দকে পরপদ/ উত্তরপদ বলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৬৮. সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বপদে বসে কোন সমাস হয়? [বিশেষ শি.নি. (স্কুল): ২০১০]
(ক) বহুব্রীহি সমাস (খ) তৎপুরুষ সমাস
(গ) দ্বিগু সমাস (ঘ) কর্মধারয় সমাস উ. গ
ব্যাখ্যা : দ্বিগু সমাস – যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় তাকে 'দ্বিগু সমাস' বলে। দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য হয়। যেমন- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ, নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
স্কুল পর্যায়-২
৬৯. 'কর পল্লবের ন্যায়'-ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস? [১৮তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০২৪]
(ক) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় (খ) উপমিত কর্মধারয়
(গ) উপমান কর্মধারয় (ঘ) বহুব্রীহি সমাস উ. খ
ব্যাখ্যা : 'কর পল্লবের ন্যায়'- ব্যাসবাক্যটি উপমিত কর্মধারয় সমাস।
উপমিত কর্মধারয় : যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিন্তু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়। যেমন-
| কর পল্লবের ন্যায় | করপল্লব |
| পুরুষ সিংহের ন্যায় | সিংহপুরুষ |
| মুখ চন্দ্রের ন্যায় | চন্দ্রমুখ |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
৭০. 'জন্মান্ধ' কোন সমাস? [১৮তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০২৪]
(ক) তৎপুরুষ (খ) বহুব্রীহি (গ) কর্মধারয় (ঘ) অব্যয়ীভাব উ. ক
ব্যাখ্যা : জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ; তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে এবং পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস : যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লোপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস। যেমন-
| আগা থেকে গোড়া | আগাগোড়া |
| জন্ম হতে অন্ধ | জন্মান্ধ |
| রোগ হতে মুক্ত | রোগমুক্ত |
| ক্ষণ হতে মুক্ত | ক্ষণমুক্ত |
অনুরূপভাবে- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), ভাষা-শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৭১. সমাস শব্দের অর্থ কী? [১৭তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০২২]
(ক) সংক্ষেপণ (খ) সমন্বয়
(গ) দুর্বোধ্য (ঘ) ভাষান্তরকরণ উ. ক
ব্যাখ্যা : 'সমাস' শব্দের অর্থ সংক্ষেপ, মিলন ও একাধিক পদের একপদীকরণ। অর্থ সম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বড় শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৭২. 'তপোবন' কোন সমাস? [১৬তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৯]
(ক) দ্বন্দ্ব সমাস (খ) চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
(গ) প্রাদি সমাস (ঘ) বহুব্রীহি সমাস উ. খ
ব্যাখ্যা : তপোবন = তপস্যার নিমিত্তে যে বন। এটি চতুর্থী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস : পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, রে, জন্য, তরে, নিমিত্ত) লোপের মাধ্যমে যে সমাস হয়, তাকে বলা হয় চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস। যেমন-
| তপস্যার নিমিত্তে যে বন | তপোবন |
| গুরুকে ভক্তি | গুরুভক্তি |
| আরামের জন্য কেদারা | আরামকেদারা |
| বসতের জন্য বাড়ি | বসতবাড়ি |
| বিয়ের জন্য পাগলা | বিয়েপাগলা |
| হজের জন্য যাত্রা | হজযাত্রা |
| পাগলের নিমিত্তে গারদ | পাগলগারদ |
| মরণের নিমিত্তে কাঠি | মরণকাঠি |
| শিশুর জন্য সাহিত্য | শিশুসাহিত্য |
| শয়নের নিমিত্তে কক্ষ | শয়নকক্ষ |
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৭৩. সমাস গঠন প্রক্রিয়ায় সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদটির নাম কী? [১৬তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৯]
(ক) সমস্যমান পদ (খ) সমস্তপদ
(গ) ব্যাসবাক্য (ঘ) উত্তর পদ উ. খ
ব্যাখ্যা : সমস্যমান পদগুলো মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে। একে আবার সমাসবদ্ধপদও বলা হয়। যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৭৪. 'সিংহাসন' কোন সমাস? [১৬তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৯]
(ক) দ্বন্দ্ব সমাস (খ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
(গ) মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি (ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস উ. খ
ব্যাখ্যা : সিংহাসন = সিংহ চিহ্নিত আসন। এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় এর একটি উদাহরণ।
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস : যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস। যেমন-
| পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন | পলান্ন |
| সিংহ চিহ্নিত আসন | সিংহাসন |
| প্রীতিসূচক উপহার | প্রীতিউপহার |
| মৌ আশ্রিত মাছি | মৌমাছি |
| সাহিত্য বিষয়ক সভা | সাহিত্যসভা |
| ঘরে আশ্রিত জামাই | ঘরজামাই |
| সাম্য বিষয়ক বাদ | সাম্যবাদ |
| স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ | স্মৃতিসৌধ |
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৭৫. 'কালসাপ' কোন সমাস? [১৬তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৯]
(ক) নিত্য সমাস (খ) দ্বন্দ্ব সমাস
(গ) বহুব্রীহি সমাস (ঘ) কর্মধারয় সমাস উ. ক
ব্যাখ্যা : কাল (বিষাক্ত) তুল্য (যম) সাপ (কাল বর্ণের নয়) = কালসাপ; নিত্য সমাসের উদাহরণ।
নিত্য সমাস : যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদ্বার্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়। যেমন-
| অন্য গ্রাম = gramantar | কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র |
| অন্য গৃহ = গৃহান্তর | তুমি আমি ও সে = আমরা |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৭৬. কানে কানে যে কথা = কানাকানি- এখানে 'কানাকানি' কোন ধরনের বহুব্রীহি সমাস? [১৫তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৮]
(ক) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি (খ) ব্যতিহার বহুব্রীহি
(গ) ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি (ঘ) মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি উ. খ
ব্যাখ্যা : কানে কানে যে কথা = কানাকানি। এখানে 'কানাকানি' ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস।
ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস : ক্রিয়ার পারস্পরিক অর্থে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়। এ সমাসে পূর্বপদে 'আ' এবং পরপদে 'ই' যুক্ত হয়। যেমন- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি, কানে কানে যে কথা = কানাকানি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
৭৭. কোনটি প্রাদি সমাসের উদাহরণ? [১৫তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৮]
(ক) গৃহস্থ (খ) ছা-পোষা (গ) শতাব্দী (ঘ) প্রগতি উ. ঘ
ব্যাখ্যা : প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি। এটি প্রাদি সমাসের উদাহরণ।
প্রাদি সমাস : প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস। যেমন-
| প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি |
| প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি |
| প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৭৮. কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে কী বলে? [১৪তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৭]
(ক) উপপদ তৎপুরুষ (খ) উপমান কর্মধারয়
(গ) উপমিত কর্মধারয় (ঘ) নিত্য সমাস উ. ক
ব্যাখ্যা : উপপদ তৎপুরুষ সমাস : কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়। যেমন- পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ; জাদু করে যে = জাদুকর; ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৭৯. 'অন্তরীপ' সমস্তপদটি কোন বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত? [১৪তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৭]
(ক) প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি (খ) সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
(গ) নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি (ঘ) ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি উ. গ
ব্যাখ্যা : 'অন্তরীপ'-এর সমস্তপদ = অন্তর্গত অপ (জল) যার; নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত।
নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস : যে বহুব্রীহি সমাস কোনো নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় না, তাকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস। যেমন-
| দুই দিকে অপ যার | দ্বীপ |
| অন্তর্গত অপ (জল) যার | অন্তরীপ |
| নরাকারের পশু যে | নরপশু |
| জীবিত থেকেও যে মৃত | জীবন্মৃত |
| পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ | পণ্ডিতমূর্খ |
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৮০. কোনটি নিত্য সমাসের সমস্তপদ? [১৩তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৬]
(ক) সেতার (খ) প্রত্যহ (গ) গ্রামান্তর (ঘ) সহোদর উ. গ
ব্যাখ্যা : 'গ্রামান্তর' - নিত্য সমাসের সমস্তপদ।
নিত্য সমাস : যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমন- গ্রামান্তর, দর্শনমাত্র, গৃহান্তর ইত্যাদি।
সে (তিন) তার যার = সেতার (বাদ্যযন্ত্র বিশেষ): সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস।
प्रत्यह = প্রতি অহ (অথবা অহ অহ) : অব্যয়ীভাব সমাস।
সহোদর = সমান উদর (গর্ভ) যার (একই মায়ের গর্ভজাত) : সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৮১. 'সংখ্যাবাচক' শব্দের সাথে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে কী সমাস বলে? [১৩তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৬]
(ক) দ্বন্দ্ব (খ) দ্বিগু (গ) কর্মধারয় (ঘ) বহুব্রীহি উ. খ
ব্যাখ্যা : 'সংখ্যাবাচক' শব্দের সাথে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে 'দ্বিগু' সমাস বলে।
দ্বিগু সমাস : সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সাথে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে 'দ্বিগু' সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়। যেমন- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল, চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৮২. ব্যাস বাক্যের অপর নাম কী? [১২তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৫]
(ক) যৌগিক বাক্য (খ) বিগ্রহ বাক্য
(গ) সমস্ত পদ (ঘ) সমস্যমান পদ উ. খ
ব্যাখ্যা : সমাস প্রক্রিয়ায় সমাসনিষ্পন্ন পদটিকে বলা হয় সমস্তপদ। সমস্তপদকে ভেঙে যে বাক্যাংশ করা হয় তাকে বলা হয় ব্যাসবাক্য। ব্যাসবাক্য বিগ্রহবাক্য বা সমাসবাক্য নামেও পরিচিত। ব্যাসবাক্যের অন্তর্গত প্রতিটি পদ এক একটি সমস্যমান পদ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৮৩. 'চাঁদের ন্যায় মুখ' = চাঁদমুখ কোন প্রকার কর্মধারয় সমাস? [১২তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৫]
(ক) রূপক (খ) উপমিত
(গ) উপমান (ঘ) মধ্যপদলোপী উ. খ
ব্যাখ্যা : 'চাঁদমুখ'-এর ব্যাসবাক্য হলো = চাঁদের ন্যায় মুখ। এটি একটি উপমিত কর্মধারয় সমাস।
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়। যেমন- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ, আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি, মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
৮৪. 'চৌচালা' কোন সমাসের উদাহরণ? [১১তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪]
(ক) বহুব্রীহি (খ) দ্বিগু (গ) তৎপুরুষ (ঘ) কর্মধারয় উ. ক
ব্যাখ্যা : 'চৌচালা' হলো সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত।
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি : পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হলে এবং সমস্তপদটি বিশেষণ বোঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলা হয়। এ সমাসে সমস্তপদে 'আ', 'ই' বা 'এ' যুক্ত হয়। যথা- দশ গজ পরিমাণ যার দশগজি, চৌ (চার) চাল যে ঘরের। এরূপ- চারহাতি, তেপায়া।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৮৫. সমাসের রীতি কোন ভাষা হতে বাংলায় এসেছে? [১১তম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪]
(ক) হিন্দি (খ) সংস্কৃত (গ) প্রাকৃত (ঘ) ইংরেজি উ. খ
ব্যাখ্যা : সমাসের রীতি সংস্কৃত ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে। সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। বাক্যে শব্দের ব্যবহার সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে সমাসের সৃষ্টি। যেমন- দেশের সেবা = দেশসেবা; বই ও পুস্তক = বইপুস্তক; নেই পরোয়া যার = বেপরোয়া ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৮৬. 'উপভাষা' কোন সমাসের উদাহরণ? [১০ম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪]
(ক) তৎপুরুষ সমাস (খ) কর্মধারয় সমাস
(গ) অব্যয়ীভাব সমাস (ঘ) বহুব্রীহি সমাস উ. গ
ব্যাখ্যা : 'উপভাষা' অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হলো:
| ভাষার সদৃশ = উপভাষা | বনের সদৃশ = উপবন |
| শহরের সদৃশ = উপশহর | গ্রহের তুল্য/সদৃশ = উপগ্রহ |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৮৭. 'রাজপথ'-এর ব্যাসবাক্য কোনটি হবে? [১০ম শি.নি. (স্কুল-২): ২০১৪]
(ক) পথের রাজা (খ) রাজার পথ
(গ) রাজা নির্মিত পথ (ঘ) রাজাদের পথ উ. ক
ব্যাখ্যা : 'রাজপথ'- এর ব্যাসবাক্য = পথের রাজা।
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
| দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত | মামার বাড়ি = মামাবাড়ি |
| ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত | পথের রাজা = রাজপথ |
| গোলায় ভরা = গোলাভরা | গাছে পাকা = গাছপাকা |
| অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু | ছেলেকে ভুলানো = ছেলেভুলানো |
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
🛑 উপসর্গ 🛑
| NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা | NTRCA | প্রশ্ন সংখ্যা |
|---|---|---|---|---|---|
| কলেজ | স্কুল | স্কুল-২ | কলেজ | ||
| ১৮তম | ১ | ০ | ০ | ১৩তম | ০ |
| ১৭তম | ০ | ০ | ০ | ১২তম | ০ |
| ১৬তম | ০ | ১ | ০ | ১১তম | ০ |
| ১৫তম | ০ | ০ | ০ | ১০ম | ১ |
| ১৪তম | ১ | ০ | ০ | ৯ম | ০ |
কলেজ পর্যায়
১. উপসর্গ কোন জাতীয় শব্দাংশ? [১৮তম শি.নি. (কলেজ): ২০২৪]
(ক) বিশেষ্য (খ) সর্বনাম (গ) অব্যয় (ঘ) বিশেষণ উ. গ
ব্যাখ্যা : ভাষায় ব্যবহৃত অব্যয়সূচক শব্দাংশের নাম হচ্ছে উপসর্গ।
উপসর্গ : বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
i. খাঁটি বাংলা উপসর্গ, ii. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং iii. বিদেশি উপসর্গ।
খাঁটি বাংলা উপসর্গ : বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি। যথা- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ : বাংলা ভাষায় যেসব সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি। যথা- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
বিদেশি উপসর্গ : আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। যেমন-
আরবি উপসর্গ : আম, খাস, লা, গর, বাজে, খয়ের।
ফারসি উপসর্গ : কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
উর্দু উপসর্গ : হর।
ইংরেজি উপসর্গ : হেড, সাব, ফুল, হাফ।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ)।
২. বাংলা ভাষায় সংস্কৃত উপসর্গ কয়টি? [১৪তম শি.নি. (কলেজ): ২০১৭]
(ক) ২২টি (খ) ২১টি
(গ) ২০টি (ঘ) ২৩টি উ. গ
ব্যাখ্যা : বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
৩. বাংলা উপসর্গ সংখ্যা কত? [১০ম শি.নি. (কলেজ): ২০১৪]
(ক) বিশটি (খ) একুশটি
(গ) বাইশটি (ঘ) তেইশটি উ. খ
ব্যাখ্যা : বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। বাংলা উপসর্গ ২১টি।
বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ)।
স্কুল পর্যায়
৪. বিপরীতার্থে 'পরা' উপসর্গ যুক্ত শব্দ কোনটি? [১৬তম শি.নি. (স্কুল): ২০১৯]
(ক) পরাকাষ্ঠা (খ) পরাক্রান্ত (গ) পরায়ণ (ঘ) পরাভব উ. ঘ
ব্যাখ্যা : বিপরীতার্থে 'পরা' উপসর্গ যুক্ত শব্দ = পরাভব, পরাজয়।
আতিশয্য অর্থে 'পরা' উপসর্গ যুক্ত শব্দ = পরাকাষ্ঠা, পরাক্রান্ত, পরায়ণ।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।